দেশের সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং অভিযোগের একটি বিশাল সংগ্রহ এখন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে পৌঁছেছে। কেউ চেয়েছেন জুলাই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার, কেউ লিখেছেন দুর্নীতিমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশের জন্য। কারো কলমে এসেছে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি, আবার কেউ ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্ট তুলে ধরেছেন। মোট ৪০,২০৬ জন সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রধান উপদেষ্টাকে তাদের মতামত জানিয়েছে। ‘দেশের চাবি, আপনার হাতে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ১৩তম সাধারণ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গণভোট উপলক্ষে দেশজুড়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি প্রচারণা চালানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘ভোটের গাড়ি’-র সঙ্গে রাখা হয়েছিল একটি বিশেষ ‘জনমত বাক্স’, যেখানে মানুষ হাতে লেখা নোট জমা দিয়েছেন। ঢাকা বিভাগ থেকে এসেছে ১০,২১৬টি মন্তব্য, চট্টগ্রাম থেকে ৬,০০৬টি, সিলেট থেকে ১,৬৫১টি, বরিশাল থেকে ২,১২৪টি, খুলনা থেকে ৪,৬৭৮টি, রংপুর থেকে ৩,৬০৫টি, রাজশাহী থেকে ৫,৭৩৮টি এবং ময়মনসিংহ থেকে ১,৭৯৯টি মন্তব্য এসেছে। ভোটের গাড়ি সারাদেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের পাশাপাশি প্রায় ২,১৬৯টি প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। গাজীপুরের রাফা লিখেছেন, “আমার পরামর্শ হলো, আমি ভবিষ্যতের বাংলাদেশে নিরাপদভাবে বাঁচতে চাই। এরকম একটি ভবিষ্যৎ গড়তে নীতি-নির্ধারক তৈরি করার নির্বাচন আয়োজন করুন।” কুমিল্লার দেওয়ান সালাহউদ্দিন লিখেছেন, “সুষ্ঠু ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। কেন্দ্রে হাঙ্গামা করা যাবে না। আমি যাকে খুশি তাকে ভোট দেব। প্রধান উপদেষ্টা ভালো ভোট আয়োজন করবেন।” চট্টগ্রামের গোলাম রাব্বানি লিখেছেন, “আমি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে কোম্পানির মালিককে বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।” ঠাকুরগাঁও থেকে একজন লিখেছেন, “গরিব মানুষ দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। বাজারে সিন্ডিকেট চলছে, গরু-মাংস কেনাও কঠিন। বাজার নিয়ন্ত্রণ চাই।” বরিশালের সাদিক লিখেছেন, “যে দেশে শিক্ষকদের মান উন্নয়ন নিয়ে কেউ ভাবছে না, সেখানে সুন্দর ও আদর্শ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।” পিরোজপুরের একজন মন্তব্য করেছেন, “বাংলাদেশের সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও বাক্স্বাধীনতা দিতে হবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।” দিনাজপুরের লিজা, বিপাশা, সুমি, লিনা ও বৃষ্টি লিখেছেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে দেশের সুন্দর ও সুষ্ঠু সংস্কার চাই। নারী ও শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণের ১০ দিনের মধ্যে রায় কার্যকর হোক। রাজনীতির সকল দল দেশের সংস্কারে অংশগ্রহণ করুক।” প্রধান উপদেষ্টা মন্তব্যগুলো পড়ে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা অমূল্য। তাই কোনো মন্তব্য, প্রশংসা, পরামর্শ বা সমালোচনাকে কেটে-ছাঁট না করে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।
সংবাদ লোড হচ্ছে...





