জাবি প্রতিনিধি: গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে। রায় ঘোষণার পরপরই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে উৎসবের আবহ নেমে আসে। শিক্ষার্থীরা দলে দলে বটতলায় সমবেত হয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং একে অপরকে মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
পরে বটতলায় শেখ হাসিনার একটি প্রতীকী কুশপুত্তলিকা গাছের ডালে ঝুলিয়ে প্রতীকী ফাঁসির দৃশ্য উপস্থাপন করা হয়।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বটতলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নেতাদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা রায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ আনন্দ প্রকাশ করেন।
এসময় জাকসু’র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “গত সতেরো বছর আওয়ামীলীগ সরকার জনগণের উপর যে জুলুমতন্ত্র কায়েম করেছিল, জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মানুষ হত্যা ও গুম তাদের কাছে জায়েজ ছিল। তাদের হাজারো অপরাধের মধ্যে রয়েছে পিলখানা হত্যাকান্ড, শাপলা চত্বরের হত্যাকান্ড, আয়নাঘর, গুম, খুন এবং সর্বশেষ ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র জনতার হত্যাকাণ্ড। এসবের বর্বরতার নির্দেশদাতা শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় ঘোষিত এ রায় ন্যায়বিচারের পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে শহীদ ও আহতদের প্রতি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট সূচনা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
সঙ্গে আরও বলেন, শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দেওয়া বিবৃতি অত্যন্ত দুঃখজনক, প্রশ্নবিদ্ধ ও নিন্দনীয়। তারা এসব বিবৃতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য বিচার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।





