জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনে করে, জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিভাজন, ঘৃণা ও সহিংসতার রাজনীতি উসকে দিচ্ছে। দলটির অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গ্রহণের পরিবর্তে তারা পুরনো সহিংস ও আধিপত্যবাদী রাজনীতির পথে ‘নতুন খেলোয়াড়’ হিসেবে আবির্ভূত হতে চাচ্ছে, যা দেশের জন্য অশুভ সংকেত।
এনসিপি এই মন্তব্যটি এনেছে তাদের সদস্যসচিব আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে জামায়াতের দেওয়া এক বিবৃতির প্রতিবাদে। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি এই অবস্থান জানায়। মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জামায়াতের বিবৃতি বাস্তবতা-বিবর্জিত, রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং জনমত বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ৬ ডিসেম্বর আখতার হোসেন যে মন্তব্য করেছিলেন তা সম্পূর্ণ তথ্যসম্মত ও দায়িত্বশীল।
দলটি উল্লেখ করেছে, ২৭ নভেম্বর পাবনার ঈশ্বরদী থানায় নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলি চালানো তুষার মণ্ডল যে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী, তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে এবং অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার করেছে। এমন স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বাস্তবতা অস্বীকার করা দায় এড়ানোর অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।
এনসিপি আরও জানিয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। তারা জামায়াতকে সত্য, শান্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে, শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন বলেন, “নির্বাচনের এখনও তফশিল ঘোষণা করা হয়নি। এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের মতো দলগুলো অস্ত্রের মহড়ায় কে কার থেকে এগিয়ে যাবে, সেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে।”
\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n
রোববার জামায়াতের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যকে ‘অসত্য, মনগড়া ও উদ্দেশ্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, “আখতার হোসেনের মতো একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার মুখে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক, অযৌক্তিক ও সস্তা রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। আমরা আশা করি, তিনি তার ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। অসত্য বক্তব্য দিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।”





