মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের আপিল শুনানি আগামীকাল মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে।
\r\nসোমবার (২১ এপ্রিল) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। শুনানিকালে আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
\r\nএর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালত এটিএম আজহারের রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করে আপিল শুনানির অনুমতি দেন এবং আসামিপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সারসংক্ষেপ জমা দিতে নির্দেশ দেন। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
\r\nএটি ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের ইতিহাসে প্রথম মামলা, যেখানে রিভিউ শুনানি শেষে মূল আপিল শুনানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
\r\nগত ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ শুনানির জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করলেও বিচারপতির অনুপস্থিতিতে তা পিছিয়ে যায়। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেলের উপস্থাপনায় আদালত শুনানির নতুন দিন ধার্য করেন ২২ এপ্রিল।
\r\nপ্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর আপিল বিভাগ এটিএম আজহারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তার আগে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজহারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।
\r\nমুক্তিযুদ্ধকালে রংপুর অঞ্চলে ১,২৫৬ জনকে হত্যা ও গণহত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক ও নির্যাতন এবং অসংখ্য বাড়িঘর লুট ও অগ্নিসংযোগসহ মোট ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। ট্রাইব্যুনাল পাঁচটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
\r\n২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আজহারের আইনজীবীরা ১১৩টি যুক্তি তুলে ধরে খালাস চেয়ে আপিল করেন। তারা ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিল ও ২,৩৪০ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দেন।
\r\nতবে জামায়াতে ইসলামী বরাবরই এই রায়কে \"প্রহসনের বিচার\" বলে দাবি করে আসছে।





