কোরআনের আয়াত: সুরা আনআম (আয়াত ১২৯) – অনুবাদ ও ব্যাখ্যা

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আরবি আয়াত:
وَ كَذٰلِكَ نُوَلِّیۡ بَعۡضَ الظّٰلِمِیۡنَ بَعۡضًۢا بِمَا كَانُوۡا یَكۡسِبُوۡنَ

সরল অনুবাদ:
১২৯. এভাবেই আমরা কিছু জালিমকে তাদের কৃতকর্মের কারণে একে অপরের বন্ধু ও সহচর করে দেই।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
তাফসিরকারদের মতে, আয়াতে ব্যবহৃত نُوَلِّي শব্দটির দুটি অর্থ পাওয়া যায়। সাহাবা, তাবেয়ী ও প্রাচীন মুফাসসিরদের বক্তব্যে এই দুই अर्थই উল্লেখ রয়েছে।

প্রথম ব্যাখ্যা: শাসক হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া বা সহচর বানিয়ে দেওয়া
মত অনুযায়ী, আল্লাহ জালিমদের শাস্তিস্বরূপ তাদের ওপর অন্য জালিমকে কর্তৃত্বকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। এতে এক জালিম আরেক জালিমের মাধ্যমে শাস্তি পায়। তাদের গোনাহ ও অবাধ্যতার কারণে এমন নেতাদের ওপর বসানো হয় যারা সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, সত্যকে অপছন্দ করায় এবং অপরাধে উৎসাহিত করে।
মুফাসসির আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.), ইবন যায়েদ, মালেক ইবনে দীনারসহ অনেকে এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাফসিরে বাগভী, ইবন কাসীর ও সা’দী তাফসিরেও similar ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় ব্যাখ্যা: পরস্পরকে যুক্ত করে দেওয়া
আরেক দৃষ্টিভঙ্গিতে বলা হয়, কেয়ামতের দিনে মানুষের বিভাজন বংশ, ভাষা বা দেশের ভিত্তিতে নয়; বরং কর্ম ও চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে হবে।
নেককাররা নেককারদের সঙ্গে থাকবে, আর পাপীরা পাপীদের দলে যুক্ত হবে। সায়িদ ইবনে জুবায়ের ও কাতাদাহ রাহিমাহুমাল্লাহ এই ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন।
তারা বলেন, ঈমানদাররা পৃথিবীতে যেখানেই থাকুক, কেয়ামতের দিনে তারা একত্রিত হবে। আর পাপাচারীদেরকে তাদেরই মত পাপী দলের সঙ্গে মিলিত করা হবে।

এই আয়াত মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে অন্যায় ও গোনাহের জীবন শেষ পর্যন্ত মানুষকেই তাদের মত সঙ্গী ও পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করায়।