বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি নিজেকে সিআইএ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক পরিচয় দিলেও, পুলিশ তা ভুয়া ও প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করেছে। গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডে তিনি স্বীকার করেছেন, তার পরিচয় ভুয়া এবং তিনি ২০১৪ সালে বিএনপি ভাঙার অ্যাসাইনমেন্টে জড়িত ছিলেন। তার দাবি, এ কাজে তৎকালীন ডিজিএফআই ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সহায়তা ছিল।


এনায়েত জানিয়েছেন, তিনি দেড় কোটি টাকা ব্যয় করে ১৪ জন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে নতুন দল গঠনের কাজ করেছেন। ২০২৩ সালে বনানীর শেরাটন হোটেলে ইনসাফ কমিটির সভার খরচও তিনি বহন করেন। তিনি দাবি করেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে এসে নানা তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর হয়ে ভাড়াটে হিসেবে কাজ করেছেন।


১৩ সেপ্টেম্বর মিন্টো রোডে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় পুলিশ তাকে আটক করে এবং পরে রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডে তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে জিএম কাদের, বাহাউদ্দিন নাসিম, সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক তাবরেজ শামস, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারি, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনসহ আরও কয়েকজনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।


পুলিশের দাবি, তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে রাষ্ট্রক্ষমতার স্বপ্ন দেখিয়ে, কখনো প্রেসিডেন্সিয়াল ডিনারে আমন্ত্রণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এসব অর্থ তিনি ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লেনদেন করতেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, তিনি একজন পেশাদার প্রতারক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং নিজেকে সিআইএ এজেন্ট পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছেন।


এনায়েতের সহযোগী গোলাম আজাদ মোস্তফাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, যিনি আগে একাত্তর টিভিতে কাজ করতেন এবং পরে এনায়েতের ব্যক্তিগত সহকারী হন। গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, এনায়েতের দাবি করা ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে, তবে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।