মানুষকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য-এ শিক্ষা ইসলামে বহুবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ দুনিয়াকে মানুষের উপযোগী করে সৃষ্টি করেছেন। প্রকৃতির সৌন্দর্য, খাদ্য, পানি-সব নিয়ামত মানুষকে তাঁর দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যম। কিন্তু বাস্তবে মানুষ সম্পদ, বিলাসিতা আর ভোগের দিকে এতটাই ঝুঁকে পড়ছে যে স্রষ্টাকে ভুলে যাচ্ছে।
ইসলামি আলেমদের মতে, রিজিক নির্ধারিত হওয়া সত্ত্বেও মানুষ মায়াজালে ছুটছে এমন কিছুর দিকে, যা তার প্রয়োজন নয়। দুনিয়া যে পথিকের বিশ্রামস্থান মাত্র-এই সত্য ভুলে মানুষ সীমা লঙ্ঘন করছে।
এ অবস্থায় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন দুনিয়াবিমুখতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত। তিনি হালাল দুনিয়া ব্যবহার করেছেন, পরিবার দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু কখনো দুনিয়াকে হৃদয়ে জায়গা দেননি। খেজুরপাতার চাটাইয়ে ঘুমানো থেকে শুরু করে সীমিত খাবারেই সন্তুষ্ট থাকা-সবকিছুতে তাঁর যুহদ প্রকাশ পেত।
ইসলামি সূত্রে আরো বলা হয়, জুহদের চার স্তর রয়েছে-হারাম থেকে দূরে থাকা, মাকরুহ এড়িয়ে চলা, হালাল ভোগে সংযম এবং হৃদয়কে আল্লাহ ছাড়া সবকিছু থেকে মুক্ত রাখা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের সময়েও নবীজির এই দুনিয়াবিমুখতা মানুষের জন্য প্রাসঙ্গিক শিক্ষা।
দুনিয়ার সৌন্দর্য, সম্পদ আর ভোগবিলাসকে পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছে ইসলাম। কিন্তু মানুষের বড় অংশ আজ সেই পরীক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কামনা, বিলাসিতা আর শক্তির দৌড়ে মানুষ স্রষ্টাকে ভুলে যাচ্ছে-এমনই আলোচনা তোলেন আলেমরা।
এ প্রসঙ্গে নবীজির জীবনে জুহদের উদাহরণ বারবার উঠে আসে। তিনি পরিবার, সমাজ এবং দায়িত্ব পালন করেছেন; আবার দুনিয়ার প্রতি আসক্তিও দেখাননি। সীমিত খাদ্য, সাধারণ জীবনযাপন এবং ইবাদতে গভীর মনোনিবেশ ছিল তাঁর নিয়মিত অভ্যাস।
ইসলামি আলেমদের ব্যাখ্যায়, জুহদ মানে দুনিয়া ত্যাগ নয়; বরং দুনিয়াকে হাতে রাখা, কিন্তু হৃদয়কে আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ রাখা। নবীজির জীবন সে শিক্ষার বাস্তব দৃষ্টান্ত।
লেখকের মতে, বর্তমান সমাজে বিলাসনির্ভর জীবন মানুষকে ব্যস্ত করে তুলেছে নিজের সাথেই লড়াইয়ে। অথচ আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার রাস্তা হলো সংযম, কৃতজ্ঞতা এবং দায়িত্বপূর্ণ জীবন।
দুনিয়াবিমুখতা বা জুহদের চারটি স্তর তুলে ধরে ইসলামি আলোচনায় বক্তব্য দিয়েছেন এক আলেম। তাঁর ব্যাখ্যায়-হারাম থেকে দূরে থাকা, মাকরুহ এড়িয়ে চলা, হালাল ভোগে সংযম, এবং অন্তরকে আল্লাহ ছাড়া সব আসক্তি থেকে মুক্ত রাখা-এ চারটি ধাপই মানুষকে প্রকৃত জুহদের দিকে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, আজকের সমাজে মানুষ সম্পদ ও বিলাসিতার দৌড়ে এতটাই জড়িয়ে যাচ্ছে যে নির্ধারিত রিজিক নিয়েও অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ছে। অথচ মানুষ দুনিয়াতে পথিক; এখানে থাকার সময় সাময়িক।
আলোচনায় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধারণ জীবন, খেজুরপাতার চাটাইয়ে ঘুমানো, সীমিত খাবারে সন্তুষ্ট থাকা-এসব উদাহরণ তুলে ধরা হয়।
এক আলেমের মতে, দুনিয়ার প্রতি মানুষের অতিরিক্ত আসক্তি তাকে স্রষ্টা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। বর্তমান সমাজে বিলাসিতা ও অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ বেড়ে যাওয়ায় মানুষের অন্তর শান্তি হারাচ্ছে।
তিনি বলেন, নবীজির জীবন জুহদের প্রকৃত উদাহরণ। তিনি হালাল দুনিয়া ব্যবহার করেছেন, কিন্তু কখনো তার দাস হননি। ইবাদতে মনোযোগ, সহজ জীবন, সংযম-এসবের মাধ্যমেই তিনি উম্মতের সামনে পথ দেখিয়েছেন।
লেখক: প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল, চরপাথালিয়া সালমান ফারসি রা. মাদ্রাসা, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ





