জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটে প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি এবং পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ হাসিবুর রহমান সরদারকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে জয়পুরহাট র্যাব কার্যালয়ের মিডিয়া সেল পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার বম্বু ইউনিয়নের ডালিম ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ক্ষেতলাল উপজেলার বুড়াইল সরদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাসিবুর রহমান সরদার দীর্ঘদিন ধরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ভুক্তভোগীর স্বামী গত চার বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করায় সেই সুযোগে তিনি ওই নারীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আসামির পরিবারকে জানানো হলে পূর্বে একটি গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকারও করেন অভিযুক্ত।
তবে অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৪টা ৫ মিনিটে ভুক্তভোগী নারী মাঠ থেকে ছাগলের ঘাস নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর নির্জন ঘরে একা পেয়ে অভিযুক্ত কৌশলে প্রবেশ করে তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। একই সঙ্গে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে।
নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ক্ষেতলাল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-১১, তারিখ ২০ এপ্রিল ২০২৬।
মামলার পর থেকেই আত্মগোপনে থাকা আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে র্যাব-৫, সিপিসি-৩, জয়পুরহাট ক্যাম্প। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব-৫, সিপিসি-৩ ক্যাম্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোঃ ফাহাদুজ্জামান আকন্দ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা শেষে তাকে ক্ষেতলাল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মুক্তারুল আলম জানান, র্যাবের কাছ থেকে হস্তান্তরের পর সোমবার আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত হাসিবুর রহমান সরদারকে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।