জয়পুরহাট প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম (সবুজ) এর চেয়ে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল বারী প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ টাকা বেশি সম্পদের মালিক।


জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিল করা আয়কর রিটার্ন ও হলফনামা ঘেঁটে এসব তথ্য জানা গেছে।


হলফনামার তথ্যমতে, ৫০ বছর বয়সী এস এম রাশেদুল আলম সবুজ পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.এ। তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪০ টাকা। চলতি বছরে তার প্রদত্ত আয়করের পরিমাণ ৩ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার হাতে নগদ রয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার ১৪০ টাকা। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা, সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত, যানবাহন, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র মিলিয়ে রয়েছে ৪৫ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নামে কৃষি ও অকৃষি জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ৩১ লাখ টাকা।

মামলা সংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলা হয়। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ১টি, ২০২৩ সালে ১টি, ২০২৪ সালে ১টি এবং বাকি ৩টি মামলা থেকে তিনি ২০২৫ সালে খালাস পান।


৭০ বছর বয়সী বিএনপি প্রার্থী আব্দুল বারীর শিক্ষাগত যোগ্যতাও এম.এ। তার আয়কর রিটার্নে মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৪ টাকা, যা প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ টাকা বেশি। তার প্রদত্ত আয়করের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৪ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার হাতে নগদ রয়েছে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫০ টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্র মিলিয়ে দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
তার আয়ের উৎস হিসেবে কৃষি খাত, শেয়ার, বন্ড, সম্মানী ও অন্যান্য খাত থেকে আয় দেখানো হয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। পাশাপাশি কৃষি জমির আর্থিক মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টাকা।

মামলা সংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে, ২০০৭ সালে দুর্নীতি দমন আইনে ঢাকার ধানমন্ডি থানায় তার বিরুদ্ধে ১টি মামলা এবং ২০১০ সালে আরেকটি মামলা হয়। এর মধ্যে ২০০৮ সালে একটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পান এবং অপর মামলাটি ২০২৫ সালে রাষ্ট্র কর্তৃক প্রত্যাহার করে নিষ্পত্তি করা হয়।

দুই প্রার্থীর দাখিল করা হলফনামার এসব তথ্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।