মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে জুমার নামাজ শেষে একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের চরজোকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, এছাড়া দুইজন মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এবং অন্যরা বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি সামাজিক দলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান দুলু।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে, যখন লাল্টু শেখ নামে এক কৃষককে মাঠে একা পেয়ে দুলু গ্রুপের লোকজন কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এরপর লাল্টু শেখের সমর্থকরা, যারা সাচ্চু গ্রুপের বলে পরিচিত, চরজোকা পশ্চিমপাড়া মসজিদের সামনে জড়ো হয়। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেওয়ায় মসজিদের ভেতরে থাকা দুলু সমর্থিত লোকজন আটকা পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হামলাকারীরা মসজিদের একটি অংশের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং মোক্তার শেখ, দুলাল মণ্ডল ও রেজাউল শেখকে কুপিয়ে আহত করে। আহতদের মধ্যে মোক্তার শেখের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে মসজিদে ঢুকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু। তার দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজনের হামলার জেরে সংঘর্ষ বাধে এবং কেউ আহত অবস্থায় মসজিদে ঢুকে যেতে পারে।
অন্যদিকে হাবিবুর রহমান দুলু দাবি করেন, লাল্টু শেখের ছেলে জিসান ঈদের দিন ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছিল, সেই ঘটনার জের ধরেই এই হামলা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, সামাজিক দ্বন্দ্ব থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।





