মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদের লক্ষ্য করে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করতে দেখেছেন আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী, এমন জবানবন্দি দিয়েছেন মাস্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রিনা মুরমু। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ এর আজকে (বুধবার) হওয়া সাক্ষ্যগ্রহণে তিনি এ তথ্য জানান।
রিনা মুরমু বলেন, “ঘটনার দিন আমি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম, সেখান থেকে আবু সাঈদকে গুলি করতে দেখেছি। দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা, যাদের পরবর্তীতে আমির ও সুজন চন্দ্র বলে পরিচয়ভুক্ত, তাঁরা সাঈদকে গুলি করেন।”
তরুণ এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, “আমার মতে, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী শেখ হাসিনা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রলীগ ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ—যারা গুলি চালিয়েছে সবাই। তাদের বিচার চাচ্ছি।”
সাক্ষ্যগ্রহণকালে রিনার জবানবন্দি যাচাই করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে মো. আমির হোসেন।
আজকের শুনানিতে প্রসিকিউটর হিসেবে অংশ নেন মিজানুল ইসলাম এবং অন্যান্য প্রসিকিউটররা ও উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল‑মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ।
এ মামলার প্রেক্ষিতে ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১-এর বিচারপতি আদালতে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সাথে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল‑মামুনকে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রোভার) হিসেবে বিচার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। গত ৩ আগস্ট থেকে শুরু হয় মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ, আজ তৃতীয় দিন।
এ মামলায় অভিযুক্তরা হলেন — ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল‑মামুন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ গত ১৬ জুন দুই পলাতক আসামি (শেখ হাসিনা ও কামাল)কে নিজেকে আত্মসমর্পণ করার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে নির্দেশ দেন। কিন্তু তাঁরা হাজির না হওয়ায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে অভিযোগ গঠনের শুনানি ধরে ১০ জুলাই এর মাধ্যমে মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।
বিগত বছর ছাত্র‑জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এই মামলাসহ আরও দুটি মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার চলছে।





