মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত—ইউএসএআইডি (USAID) বন্ধ ঘোষণা—ঘিরে একজোট হয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক দুই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জর্জ ডব্লিউ বুশ, পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী বোনো।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

বারাক ওবামা ইউএসএআইডি বন্ধের সিদ্ধান্তকে ‘বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মানবিক কাজ এই সংস্থার মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছিল। এ সিদ্ধান্ত গভীর ভুল। আশা করি, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের নেতারাই এর গুরুত্ব শিগগির উপলব্ধি করবেন।”

সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বলেন, “এই সংস্থার মাধ্যমেই এইডস ও এইচআইভি কর্মসূচির মাধ্যমে অন্তত ২৫ মিলিয়ন মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। এটি আমাদের জাতীয় স্বার্থে একটি ঐতিহাসিক সাফল্য ছিল।”

ইউটু ব্যান্ডের গায়ক ও মানবাধিকারকর্মী বোনো বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে, তারাই আসলে আমাদের সেরা কিছু মানুষ ছিলেন। ইউএসএআইডি বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়বে।”

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইউএসএআইডি-এ দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অপচয় ছড়িয়ে পড়েছিল। এ কারণে সংস্থাটি বন্ধ করে দিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে এর কার্যক্রম একত্রিত করা হয়েছে।

২০২4 সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ (DoGE) সংস্থাটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ডিওজিই-এর সাবেক প্রধান ইলন মাস্ক ইউএসএআইডি-কে “আমেরিকাবিরোধী মার্কসবাদীদের আড্ডা” বলে অভিহিত করেন।

ট্রাম্প কংগ্রেসে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, “ডিওজিই ইতোমধ্যে ২২ বিলিয়ন ডলারের সরকারি অপচয় শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে ইউএসএআইডি’র বাজেট অপচয় অন্যতম।” উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—বার্মায় বৈচিত্র্য ও সমতা ভিত্তিক বৃত্তির জন্য ৪৫ মিলিয়ন ডলার এবং “ট্রান্সজেন্ডার ইঁদুর তৈরির গবেষণায়” ৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের কথা।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইউএসএআইডি-এর বিদেশি সহায়তা কার্যক্রম এখন থেকে সরাসরি পররাষ্ট্র দপ্তর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। তার ভাষায়, “সংস্থাটি আমেরিকার স্বার্থের চেয়ে এনজিও শিল্পের সুবিধা রক্ষায় বেশি মনোযোগী ছিল, যা উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করেছে।”

১৯৬১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ইউএসএআইডি প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় মার্কিন সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ছিল।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার অঙ্গনে চলছে তীব্র বিতর্ক। বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসএআইডি বন্ধের প্রভাব শুধু মানবিক ক্ষেত্রেই নয়, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক নেতৃত্বেও বড় ধরনের অভিঘাত ফেলতে পারে।