যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত টেসলা সিইও ইলন মাস্ক এবার প্রকাশ্যে সমালোচনা করলেন ট্রাম্পের নতুন আর্থিক বিলের। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে সদ্য পাস হওয়া ‘বিগ, বিউটিফুল বিল’ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
\r\nমার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, “আমি হতাশ, কারণ এই বিল বাজেট ঘাটতি কমাচ্ছে না, বরং বাড়িয়ে দিচ্ছে।” অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বিলের ফলে আগামী অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে।
\r\n‘বিগ, বিউটিফুল বিল’-এ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দেওয়া কর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো, প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং অভিবাসনবিরোধী কার্যক্রমে তহবিল বরাদ্দের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত আছে। পাশাপাশি ঋণসীমা চার ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাবও রয়েছে, যা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহে ঋণের পথ সুগম করবে।
\r\nমাস্ক বলেন, “একটি বিল বড় হতে পারে, সুন্দরও হতে পারে—কিন্তু দুইটা একসঙ্গে? সেটা সন্দেহজনক।”
\r\nতিনি আরও বলেন, এই বিলের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনেরই একটি পূর্ববর্তী উদ্যোগ ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (ডোজ)’-এর কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে গঠিত ডোজ-এর প্রধান ছিলেন মাস্ক নিজেই। এ সংস্থার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা হ্রাসসহ একাধিক খাতে ব্যয় কমানোর কাজ শুরু হয়েছিল।
\r\nমাস্ক আগেই জানিয়েছেন, তিনি ডোজ-এর প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অনুদান কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি কমপক্ষে আরও পাঁচ বছর টেসলার নেতৃত্বে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
\r\nডোজ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সংস্থার কার্যক্রমের ফলে ইতোমধ্যে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়—এই দাবির পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ এখনো নিশ্চিত নয়।
\r\nমাস্কের কঠোর ব্যয়সংক্রান্ত নীতির ফলে অতীতে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। ফেডারেল কর্মীদের ছাঁটাই এবং বিদেশি সহায়তা কমানোর উদ্যোগ তার বিরুদ্ধে ব্যাপক বিতর্ক ও বিক্ষোভ সৃষ্টি করে। এমনকি এতে টেসলার বিক্রিও প্রভাবিত হয়।
\r\nতবে মাস্ক সাফ জানিয়ে দেন, “আমি যা করেছি, তা প্রয়োজনীয় ছিল।”





