ইরানকে উদ্দেশ্য করে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর চরম আক্রমণাত্মক ও অকথ্য ভাষার হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এমন আচরণে অনেক রাজনীতিক তাঁর মানসিক স্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানান। তিনি লেখেন, “হারামির দল, হরমুজ প্রণালি খুলে দাও। নাহলে নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হবে। শুধু দেখো কী হয়।” একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের হুমকিও দেন এবং ব্যঙ্গ করে পোস্টের শেষে লেখেন, “সকল প্রশংসা আল্লাহর।”
ট্রাম্পের মন্তব্যকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন তাঁর একসময়ের কট্টর সমর্থক ও সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন। তিনি ট্রাম্পকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উচিত অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করা। গ্রিন আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিনা উসকানিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে, অথচ ইসরায়েলের কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে।
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের আচরণকে ‘উন্মাদ পাগলের প্রলাপ’ বলে উল্লেখ করেন। একইভাবে, স্বাধীন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ট্রাম্পের পদক্ষেপকে বিপজ্জনক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির প্রলাপ হিসেবে বর্ণনা করে কংগ্রেসকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্পের আচরণকে চরম পাগলামি আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন যে তিনি ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী এবং আরও প্রাণহানির পথে রয়েছেন। এছাড়া, রো খান্না ও টিম কেইন ট্রাম্পের অকথ্য হুমকি এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান





