ঢাকা মহানগরীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে, যার কারণে নগরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।


কলাবাগান এলাকায় থাকেন শুভা জিনিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, “সকালে অফিস থেকে এসে সন্ধ্যায় বাসায় দেখি চুলা টিমটিম করে জ্বলছে। রান্না হতে অনেক সময় লাগে। সারাদিন গ্যাস থাকে না; রাত ১১টার পর আসে, তখন প্রতিবেশীরা রান্না করেন। এখন রাইস কুকারে কিছু রান্না করছি। বৈদ্যুতিক চুলা কিনতে ভাবছি।”


গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ফেসবুক পেজে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিনবাজারে তুরাগ নদীর তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ পাইপলাইন মেরামত করা হয়েছে। তবে মেরামতের সময় পাইপে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া, ঢাকা শহরে গ্যাসের সরবরাহও কম থাকায় শহরে স্বল্পচাপের সমস্যা তৈরি হয়েছে।


পূর্ব রাজাবাজারের রুমানা বলেন, “বাড়িতে কাজ শেষে রাত একটার দিকে গ্যাস পাই। সারাদিন থাকে না। স্বল্প আয়ে সংসার চলায় বিকল্প ব্যবস্থা নেই।”


নিকেতন এলাকার সাদি ইসলাম জানান, “সকালবেলা সামান্য গ্যাস থাকলেও দুপুরে বা বিকালে চুলা জ্বলে না। বিকেলে চাপ খুব কম থাকে, তখন রাতের খাবার রান্না করতে হয়।”


মিরপুর-২ নম্বরের দক্ষিণ মণিপুরের মো. আবু হুরাইরাহ্ বলেন, “সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যায়। সারা দিন আর থাকে না। বিকেল বা সন্ধ্যায় চাপ কম থাকায় রান্না কঠিন হয়ে যায়।”


খিলগাঁওয়ের ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, “সকাল ছাড়া গ্যাস থাকে না। তাই সকাল ৬টায় উঠেই রান্না করতে হয়। এখন রান্নার ভরসা প্রধানত বৈদ্যুতিক চুলা।”


তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বল্পচাপের সমস্যা সমাধানে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রাহকদের অস্থায়ী অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।