ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হলে বাম ছাত্রসংগঠন ব্যতীত অন্য সব ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বামপন্থি নেতা উমামা ফাতেমা। তিনি ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সদস্য সচিব এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও মুখপাত্র।


গত শুক্রবার (৮ আগস্ট) হলের প্রাধ্যক্ষ বরাবর দেওয়া একটি লিখিত দরখাস্তে তিনি দাবি করেন, সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, শিবির ও বাগছাসের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখা হোক। তবে তিনি বামপন্থি সংগঠনগুলোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, যাদেরও হলে সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।


এর আগে একইদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে কমিটি গঠন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এই ঘোষণার পর অনেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেন, কারণ ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই হলগুলোতে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনীতি নিয়ে নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।


দরখাস্তে উমামা ফাতেমা উল্লেখ করেন, “গত বছরের ১৭ জুলাই আমরা সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করি যে, কবি সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, শিবির ও বাগছাসের মতো সংগঠনগুলোর রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে। এক বছর ধরে এই চুক্তি কার্যকর ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই ছাত্রদল হলে কমিটি ঘোষণা করে, যা সেই চুক্তির লঙ্ঘন।”


একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদল গোপনে সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে আসছিল এবং এখন তা প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।


এ ঘটনার প্রেক্ষিতে উমামা ফাতেমা তার ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদলের কমিটি বাতিল করতে শুক্রবার রাত পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেন এবং বলেন, তা না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


তবে তার দরখাস্ত ও অবস্থান নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক হামজা মাহবুব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফেসবুক গ্রুপে লিখেছেন, “উমামা ফাতেমা হলে বাম রাজনীতি বাদে অন্য সব রাজনীতি চান না – এটা দ্বিচারিতা (hypocrisy)। হলে বা একাডেমিক এলাকায় রাজনীতির বিপক্ষে কথা বলা এক জিনিস, কিন্তু বাম রাজনীতিকে বৈধ রেখে অন্যদের নিষিদ্ধ করতে চাওয়াটা পক্ষপাতদুষ্ট।”


প্রসঙ্গত, হলে রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার পর সবচেয়ে আগে সংগঠনিকভাবে কমিটি গঠন করে ছাত্র ইউনিয়ন, যারা চলতি বছরের ২৬ মে সুফিয়া কামাল হলে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করে। যদিও তখন তেমন কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি।


এই পরিস্থিতি থেকে উঠে এসেছে প্রশ্ন—হলের রাজনীতি নিয়ে আদৌ কোনো সমতা থাকছে কি? নাকি ছাত্ররাজনীতির মাঠেও তৈরি হচ্ছে পক্ষপাতের নতুন ধারা?