ঝিনাইদহ-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ মনে করছেন, আদর্শবোধের চেয়ে নিজের স্বার্থই তার প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের জেলার নেতারা বলছেন, রাশেদ খানের বিএনপিতে যোগ দেওয়া একটি কৌশল; ভোটের পর হয়তো তিনি আবার গণঅধিকারে ফিরে আসবেন।
গণঅধিকার পরিষদের ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “৫ আগস্টের পর উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব ছিল নুরুল হক নূর ও রাশেদ খান। গণঅধিকার পরিষদের নতুন প্রজন্ম রাজনীতিতে যে প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল, তা সংসদে নেতৃত্বের জন্য সহজতর করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু বড় কোনো দলের পক্ষপাত এ পথকে কঠিন করেছে। আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) জারির ফাঁদে পড়ে রাশেদকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, রাষ্ট্রও এ প্রক্রিয়ায় বাধ্য করেছে। তিনি এখন বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদে বিপ্লবী চেতনা ও শহীদদের বক্তব্য তুলে ধরবেন।”
গণঅধিকার ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “রাশেদ খান দেশের স্বার্থে ওই পদে গেছেন। আমরা সাবেক সাধারণ সম্পাদককে নয়, দলের সমঝোতার কারণে বিএনপির সঙ্গে কাজ করছি।”
এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের ঝিনাইদহ জেলা সাধারণ সম্পাদক ইকবাল জাহিদ রাজন বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্তেই রাশেদ খান বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে তিনি বিএনপিতে গেলেও আমরা নির্বাচনে তাঁর পক্ষে কাজ করব। তিনি ভবিষ্যতে আবার গণঅধিকারে ফিরবেন কি না, তা দলীয় সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হবে।”
জানা গেছে, বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে রাশেদ খানকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এই ঘোষণায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ক্ষুব্ধ হন, কারণ দলীয় প্রার্থী বাদ দিয়ে অন্য দলের একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এরপর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রার্থিতা বাতিল করে স্থানীয় বিএনপির কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি নিয়ে প্রতিবাদ ও সমাবেশ আয়োজন করেন। শুক্রবারও ওই আসনের দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং তাদের সমর্থকরা কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ ও গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন।
শনিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মহাসচিবের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন রাশেদ খান। এ বিষয়ে বিকেল তিনটার দিকে তার মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এলাকায় ফিরে গিয়ে কথা বলব। ঢাকায় যা বলেছি, তা সাংবাদিকদের সামনে বলেছি।”





