জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বর্তমান সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টার সম্পর্ক নিয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে “চরম মিথ্যাচার” বলে আখ্যা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

\r\n

রাশেদ লেখেন, “নাহিদ ইসলামকে গণঅভ্যুত্থানের নায়ক হিসেবে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু আজ তিনি প্রকাশ্যে একটি মিথ্যা বলেছেন। এনসিপির সঙ্গে দুই ছাত্র উপদেষ্টার সম্পর্ক থাকার বিষয়টি তার দলের সবাই জানে, সংবাদ সম্মেলনের সময় যারা পাশে ছিলেন তারাও জানেন।”

\r\n

তিনি দাবি করেন, এনসিপি গঠনের পুরো প্রক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। রাশেদের ভাষ্য, “নাহিদ ইসলামের মন্ত্রীপাড়ার বাসাতেই দল গঠনের বেশিরভাগ নীতি নির্ধারণমূলক বৈঠক হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার জানা।”

\r\n

রাশেদ আরও বলেন, “উপদেষ্টা পদে থেকে এনসিপি গঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই তিনজন শপথ ভঙ্গ করেছেন। এভাবে নিজের সংশ্লিষ্টতাকে অস্বীকার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমনকি আমাদের দলের কয়েকজনকে দলে ভেড়াতে আসিফ মাহমুদ ফোন করেছে, বৈঠক করেছে, মেসেজ করেছে।”

\r\n

তিনি নাহিদ ইসলামের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমি চাই, গণঅভ্যুত্থানের একজন মুখপাত্র হিসেবে তিনি সত্য বলুন। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে রাজনীতি করা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি আমার বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে যেকোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।”

\r\n

এর আগে শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের সঙ্গে এনসিপির কোনো সম্পর্ক নেই। তারা যদি রাজনীতি করতে চান বা নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাহলে তাদের সরকারের দায়িত্ব ছাড়তে হবে।”

\r\n

তিনি বলেন, “সরকারের অংশ হয়ে কেউ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে না। এনসিপি সরকারের বাইরে থাকা একটি স্বাধীন রাজনৈতিক উদ্যোগ।”

\r\n

সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র উপদেষ্টাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এনসিপি গঠনের পেছনে সরকারের ভূমিকা এবং ছাত্র উপদেষ্টাদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য স্পষ্ট করলেও, রাশেদ খানের প্রকাশ্য সমালোচনায় বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।

\r\n

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তিদের দূরত্ব বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।