দেশে ফিরে প্রথমেই বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন তারেক রহমান। দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকায় অবতরণের পর তিনি যে কোনো সময় শেরেবাংলা নগরে বাবার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রত্যাবর্তনের পরদিন শুক্রবার মাজার জিয়ারতের সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরের কাছাকাছি তিনশ ফুট সড়কে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। রাজধানীবাসীর জনদুর্ভোগ এড়াতে এই সড়কটি বেছে নেওয়া হয়েছে। সংবর্ধনাকে ঘিরে বিপুল জনসমাগমের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
এদিকে দুই সপ্তাহ ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাশে থাকা ডা. জোবাইদা রহমান শনিবার লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সকাল ৮:৪৮ মিনিটে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত ফ্লাইটে ঢাকার জন্য রওনা দেন। ৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে চিকিৎসা তদারকিতে যুক্ত ছিলেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, ডা. জোবাইদা রহমান লন্ডনে ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরবেন।
১৭ বছরের বেশি সময় পর যুক্তরাজ্য থেকে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ দুপুরে তার অবতরণের কথা। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ইতিমধ্যেই তিনি ট্রাভেল পাস পেয়েছেন।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপি বড় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা একাধিক বৈঠক করেছেন। এর অংশ হিসেবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ঢাকা ও আশপাশের বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংগঠনিক ইউনিটের ‘সুপার ফাইভ’-এর সঙ্গে জরুরি সাংগঠনিক সভা ডাকা হয়েছে। শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় নয়াপল্টনের ভাসানী ভবনে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, শহীদ জিয়ার হাতে প্রতিষ্ঠিত এবং খালেদা জিয়ার লালিত গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে তারেক রহমান দেশে ফিরছেন। তার আগমন মানেই গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন।
সেই সভায় ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ হবে এবং এটি হবে ইতিহাসের এক স্মরণীয় সংবর্ধনা।
নেতাকর্মীদের ঢাকায় আগমন সহজ করতে বিশেষ ট্রেন ও বগি রিজার্ভের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা হবে ঐতিহাসিক ঘটনা এবং তা স্মরণীয় করে রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি চলছে।