দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, যাজকসহ অন্যান্য সেবাকর্মীদের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও চার্চে কর্মরতদের এ ভাতা দেওয়া হবে।


রোববার (৮ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ জানান, পাইলট স্কিম অনুযায়ী প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা।


তিনি বলেন, প্রতিটি মন্দিরের জন্য মাসিক ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত পাবেন ৩ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্যও ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যেখানে বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩ হাজার টাকা।


চার্চের ক্ষেত্রেও মাসিক ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে। এতে পালক বা যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী পালক বা যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা।


ইসমাইল জাবিউল্লাহ আরও জানান, ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে কর্মরতদের জন্য বিশেষ বোনাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মসজিদের কর্মীরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় বছরে দুইবার এক হাজার টাকা করে বোনাস পাবেন। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দুই হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে।


তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য এই ভাতা দিতে প্রায় ২৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। এই অর্থ আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সারা দেশে কর্মসূচিটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হলে প্রতি অর্থবছরে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।