সাত বছর আগে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজের ফ্ল্যাটে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতিকে গলা কেটে হত্যার মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল, রোববার। ঢাকা সদর দপ্তরের সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তারের আদালতে রায় ঘোষণা করা হবে।
২০১৯ সালের ১ নভেম্বর রাতে ধানমন্ডির ২৮ নম্বর রোডের ‘লোবেলিয়া হাউজ’ নামের পঞ্চম তলা থেকে টিমটেক্স ও ক্রিয়েটিভ গ্রুপের ডিএমডি কাজী মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ওই বছরের ৩ নভেম্বর মামলা দায়ের করেন আফরোজার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা। তদন্তভার পুলিশ ও ডিবি থেকে পিবিআইকে দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত দুই আসামি হলেন আফরোজার বাসার কর্মী বাচ্চু মিয়া এবং নতুন কাজের লোক সুরভী আক্তার নাহিদ। তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার দিন বিকেলে বাচ্চু আলমারির চাবি চাইলে আফরোজা দিতে অস্বীকার করেন। রাগে ক্ষোভে বাচ্চু সুরভীর সহযোগিতায় ধারালো ছুরি দিয়ে আফরোজাকে হত্যা করে। গৃহকর্মী দিতি হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য দেখে ফেলায় সুরভী তাকে হত্যা করে। পরে তারা অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান জানান, অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছেন এবং আশা করছেন, আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হবে।
মামলার তদন্ত অনুযায়ী, বাচ্চুর লোভ ও বিলাসী জীবনযাপনের মানসিকতা হত্যার মূল কারণ ছিল। বাচ্চু পূর্বপরিচিত সুরভীকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাসায় প্রবেশ করেছিল।
বিচার চলাকালীন আদালতে ৩২ সাক্ষীর মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার দিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আফরোজা ও দিতির হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যা পরে পরিবারের নজরে আসে।





