বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু ঢাকায় আসছেন। কূটনৈতিক মহলে এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির হিসেবে দেখা হচ্ছে।


বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর আমন্ত্রণে মালদ্বীপসহ ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু সরাসরি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


শপথ অনুষ্ঠান আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ নেবেন। বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।


ড. মুইজ্জু ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচনে বিজয়ের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আশা প্রকাশ করেছিলেন।


বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্য খাতের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দুই দেশের জন্য যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।


শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটান।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এই শপথ অনুষ্ঠানকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।