নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ সন্ত্রাস চালানোর চেষ্টা করলে তার সমুচিত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে প্রশাসনকে অবশ্যই অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেরপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রীবরদী উপজেলার জামায়াত সেক্রেটারি রেজাউল হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে একজন জামায়াত নেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় এখনো মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। তিনি আরও বলেন, যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের জন্য এটি নতুন কিছু নয়। তারা নিজেদের দলের মধ্যেও মানুষ হত্যা করেছে। মানুষের নিরাপত্তার কথা বলে যে রাজনীতি খুন করে, সেটিকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ রাজনীতি বলে মন্তব্য করেন।
নারীদের উদ্দেশে ‘মা’ সম্বোধন করে জামায়াত আমির বলেন, বিভিন্ন জায়গায় মায়েদের অসম্মান করা হচ্ছে। যারা এসব করছে, তারাও মায়ের সন্তান। তিনি তাদের অনুরোধ জানান, নিজেদের মা, স্ত্রী ও বোনকে সম্মান করতে শিখতে। নিজের পরিবারকে সম্মান করতে পারলে দেশের সব মাকেও সম্মান করা সম্ভব হবে। নারীদের অসম্মানকারীদের তিনি অমানুষ বলে আখ্যা দেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি সন্ত্রাস চালাতে চায়, তাহলে তার সমান জবাব দিতে হবে। তবে আগে প্রশাসনকে জানাতে হবে। যদি দেখা যায় প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তাহলে তা প্রতিহত করা ওয়াজিব হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুবসমাজের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত যুবকদের হাতেই বাংলাদেশের দায়িত্ব তুলে দিতে চায়। বৈষম্য, অন্যায়, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দেশ একদিন দাঁড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুবকরাই বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের ককপিটে বসবে, আর বর্তমান প্রজন্ম পেছনের আসনে থাকবে। যুবসমাজকে নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়া হবে।
নিজের হ্যাক হওয়া এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নারীদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য পোস্ট করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিছিল শুরু করেছে। যারা মায়েদের সম্মান করে না, তারাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাময়িকভাবে কোনো মা যদি এসব অপতথ্যের কারণে কষ্ট পেয়ে থাকেন, সে জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান।
এ সময় তিনি আরও আশ্বাস দেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের কোনো জেলা সরকারি মেডিকেল কলেজের বাইরে থাকবে না। পাশাপাশি সারা দেশকে রেলওয়ে যোগাযোগের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও দেন।





