ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিটিয়ে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে একত্রিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভেদ দূর করে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।

এর অংশ হিসেবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতাদের দলে ফেরানো শুরু হয়েছে। এতে ২৪ আগস্টের পর বহিষ্কৃত নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অংশ নেওয়া নেতারাও অন্তর্ভুক্ত।

দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূলের প্রায় ৬০ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সর্বশেষ রোববার বিএনপি ৪০ নেতার পদ ফিরিয়ে দিয়েছে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে প্রার্থীদের পেছনে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে মাঠে প্রভাবশালী এবং আন্দোলনে সক্রিয় নেতাদের দলে ফেরানো হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হচ্ছে কেস টু কেস ভিত্তিতে। নেতা-কর্মীর অতীত অবদান, আন্দোলনে ত্যাগ এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতরতা বিবেচনা করে পদ পুনর্বহাল করা হয়।”

এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা নেতারা পুনরায় দলের কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এতে তৃণমূলে সংগঠন শক্তিশালী হচ্ছে এবং নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয় সম্ভাবনা বাড়ছে।

কিছু বিশেষ উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। খুলনার নজরুল ইসলাম মঞ্জু, যাকে ২০২১ সালে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল, সম্প্রতি ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে দলে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসেন। গত ৩ নভেম্বর ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় তিনি খুলনা-২ আসনে মনোনয়ন পান। একইভাবে কুমিল্লার সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুও দীর্ঘ সময় দল থেকে দূরে থাকার পর দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

এছাড়া সম্প্রতি বিএনপি ৪০ নেতার পদ পুনর্বহাল করেছে। তাদের মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অংশ নেওয়া ও স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা নেতারা অন্তর্ভুক্ত। পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দলের লক্ষ্য স্পষ্ট—বিভেদ দূর করে সবাইকে ‘এক ছাতার নিচে’ আনা এবং নির্বাচনের আগে সংগঠনকে সর্বাধিক শক্তিশালী করা।