নির্বাচনের আগে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, “মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কার নিশ্চিত না করে আপনারা (অন্তর্বর্তী সরকার) নির্বাচনের দিকে এগোতে পারবেন না। জনগণ এখন আর সেই পুরনো ধোঁকার রাজনীতি মেনে নেবে না।”
নুর আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে সব রাজনৈতিক দল সমান সুযোগে, নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারে। এটি আজকের সমাবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি।”
এর আগে দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশের মূল পর্ব শুরু হয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রথম পর্ব। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে সমাবেশস্থলে পৌঁছান দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাকে স্বাগত জানাতে রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন।
জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, এই সমাবেশ স্মরণকালের অন্যতম বড় জনসমাগম হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে। রাজনৈতিক মাঠে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
সমাবেশে দলীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বার্তা দেন। তিনি গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার এবং প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা’র ভিত্তিতে নতুন এক জনকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার করেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদের সদস্যরা এবং ‘জুলাইয়ের শহীদ’ পরিবারের প্রতিনিধিরা।
জামায়াত নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাবেশ সফল করতে দলটি রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাপক সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়েছে। আমিরসহ শীর্ষ নেতারা একাধিক গণসংযোগ, প্রস্তুতি সভা এবং মিছিল-সমাবেশ করেছেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকসমাগম নিশ্চিত করতে প্রায় ১০ হাজার বাস, কয়েকটি ট্রেন এবং দক্ষিণাঞ্চল থেকে লঞ্চ রিজার্ভ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ জুলাই) থেকেই অনেক নেতাকর্মী রাজধানীর পথে রওনা দেন।
ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের নেতাদেরও এই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়। জামায়াতের লক্ষ্য—এই সমাবেশে অন্তত ১৫ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।





