একজন প্রকৃত মুসলমান তার ধর্মীয় কর্তব্য পালন করেন—নিয়মিত নামাজ পড়া, রোজা রাখা, জাকাত দেওয়া এবং হজ সম্পন্ন করা। এছাড়া মানুষকে সদ্ব্যবহার করা, মিথ্যা ও অন্যায় পরিহার করা এবং ন্যায়পরায়ণ হওয়ার মতো নৈতিক গুণাবলিও তিনি অর্জন করেন। তবে তাঁর অন্তরে একটি গভীর আকাঙ্ক্ষা লালিত থাকে—আখেরাতে উচ্চ মর্যাদা অর্জনের জন্য আল্লাহর পথে জেহাদ এবং শাহাদাত লাভ।

তিনি চায় আল্লাহর পথে লড়াই করে সঠিকভাবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে, অত্যাচার ও অন্যায়মুক্ত সমাজ গড়তে এবং প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে। কারণ তিনি জানেন, আল্লাহ মু’মিনদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করেছেন, এবং বিনিময়ে প্রতিশ্রুত জান্নাত প্রদান করেছেন। কোরআনে আল্লাহ বলেন,

“নিশ্চয় আল্লাহ মু’মিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করেছেন; বিনিময়ে তাদের জন্য আছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, এবং মারা গেলে আল্লাহ তাদের জন্য সম্পূর্ণ প্রতিদান রাখবেন।” (সূরা তাওবা : ১১১)

এই আয়াত প্রমাণ করে যে আল্লাহর পথে সম্পদ ও জীবন উৎসর্গের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস ও সিরাতেও জেহাদের ফজিলত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

নবীজির শহীদত্ব কামনা

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা লালন করতেন। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন:

“আমি চাই আল্লাহর পথে শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই, আবার জীবিত হই।” (মুসলিম : ১৮৭৬)

জেহাদ সর্বোত্তম ইবাদত

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সর্বোত্তম আমল হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, তারপরে আল্লাহর পথে জেহাদ, এবং এরপর কবুলযোগ্য হজ। (বুখারি : ২৫০৬)

ইসলামের শিখর

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:

“সব কাজের মূল হলো ইসলাম, স্তম্ভ হলো নামাজ, এবং সর্বোচ্চ শিখর হলো জেহাদ।” (ইবনে মাজাহ : ৩৯৭৩)

মুজাহিদের শ্রেষ্ঠ জীবন

জেহাদের জন্য প্রস্তুত মুজাহিদের জীবনই সর্বোত্তম। আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ঘোড়ার লাগাম ধরে প্রস্তুত থাকে, তাঁর জীবনই শ্রেষ্ঠ। (মুসলিম : ৩৯৭৭)

শাহাদাত বা গনিমত

মুজাহিদ যদি শহীদ হন, আল্লাহ তাঁকে জান্নাত প্রদান করবেন। যদি ঘরে ফিরে আসেন, তিনি গনিমতের মাল লাভে ধন্য হবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“যে ব্যক্তি আমার পথে বের হয়, আল্লাহ তাকে পূর্ণ সাওয়াব দান করবেন, অথবা গনিমতসহ ফিরিয়ে দেবেন, অথবা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” (বুখারি : ৩৭৮)

শহীদদের ছয়টি পুরস্কার

তিরমিজি (১৬৬৩) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শহীদদের জন্য ছয়টি পুরস্কার রয়েছে:

প্রথম রক্তবিন্দু পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা ও জান্নাতের দৃশ্য।

কবরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি।

কিয়ামতের ভয় থেকে নিরাপত্তা।

মর্মর পাথরের মর্যাদার টুপি।

৭২ জন জান্নাতি হুরের সঙ্গীতা।

নিকটাত্মীয়দের জন্য সুপারিশ গ্রহণ।

শহীদত্বের এই মর্যাদা মুসলমানদের জন্য ঈমান ও ত্যাগের চূড়ান্ত উদাহরণ।

লেখক: শিক্ষক, জামেউল উলুম মাদরাসা, মিরপুর-১৪, ঢাকা