ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে প্রচারণার নতুন ঢঙে আলোচনায় এসেছিলেন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী আশিকুর রহমান। চোখে সানগ্লাস, ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট ও হাতে লাইটার– এমন ব্যতিক্রমী ভঙ্গিতে তৈরি পোস্টারে তিনি রাতারাতি ‘ভাইরাল আশিক’ হিসেবে পরিচিতি পান। প্রচারণায় ছিল না কোনো লিফলেট বা অন্যকিছুর ব্যবহার।

গত ২৩ আগস্ট গণমাধ্যমকে মো. আশিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, ‌‌‌‘ডাকসু নির্বাচনে আমি অন্তত মেঘমল্লার বসুকে হারাব।


আমি যেহেতু একটা পদে দাঁড়িয়েছি, অবশ্যই আমি একটা কিছু নিয়ে ফিরব। যারা আদর্শের রাজনীতি করে তাদের মধ্যে সবচেয়ে লোয়েস্ট ক্যান্ডিডেট হলো মেঘমল্লার। ওরে যদি না হারাতে পারি, তাহলে তো আমার ম্যান্ডেটই থাকবে না।‌‌‌’
তবে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে মেঘমল্লার বসুর থেকে অনেক কম ভোট পেয়েছেন আশিকুর রহমান।


তবে আগামী বছর আবারও ডাকসু নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঘোষিত ফলে দেখা যায়, ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে আশিকুর রহমান পেয়েছেন মাত্র ৫২৬ ভোট। আর মেঘমল্লার বসু পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৪৯টি ভোট। এই পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী এস এম ফরহাদ।

তিনি পেয়েছেন সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল নেতা তানভীর বারী হামীম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৮৩ ভোট।
ভোটের ফল প্রকাশ করার পর আশিকুর রহমান তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন আশিকুর রহমান। সেখানে তিনি মেঘমল্লার বসুর প্রতি সম্মান বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে আশিকুর রহমান বলেন, ‌‌‌‘তোমার প্রতিপক্ষের শক্তি স্বীকার করতে হবে।


ভেবেছিলাম যাকে হারিয়ে অন্তত সেকেন্ড লাস্ট হবো সে আজ ১৯ জনের মধ্যে তৃতীয় পজিশনে আর আমি ষষ্ঠ পজিশনে। আপনার (মেঘমল্লার বসু) প্রতি সম্মান বেড়ে গেলো ভাই।’
জিএস পদে সবার ভোট সংখ্যা দিয়ে তিনি আরো লিখেছেন, ‌‌‌‘লিফলেট পোস্টার ছাড়া, জিরো ইনভেস্টমেন্টে এত এত হেভিওয়েটদের ভিড়ে তাও আবার জিএস পদে হঠাৎ দাড়িয়ে এই পজিশনে আসা কোনমতেই আমার কাছে কম কিছু নয়। অনেক প্যানেলের প্রার্থীদের থেকেও বেশি ভোট পেয়েছি। তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি। আর যারা এত কিছুর পরেও আমার ওপর ভরসা রেখে আমাকে ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এটাই আমার ম্যান্ডেট সুযোগ থাকলে ইনশাআল্লাহ পরের বছর আরো শক্তিশালী রূপে আবার দেখা হবে। আপাতত পড়ালেখায় মনোনিবেশ করি।’