অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান-এর ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে তার দীর্ঘদিনের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আবুধাবি ইসলামাবাদের কাছে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়েছে, যা দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।

চলতি মাসে উত্থাপিত এ দাবি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সম্ভাব্য ৭ বিলিয়ন ডলারের বেইলআউট কর্মসূচিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। রিয়াদ ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়ে দেশটির রিজার্ভ শক্তিশালী করেছে এবং বিদ্যমান ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণের মেয়াদ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আবুধাবির এই সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন। বিশেষ করে ইরান-কে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনায় পাকিস্তানের তুলনামূলক নরম অবস্থান এবং মধ্যস্থতার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে নেয়নি আমিরাত।

ব্রিটিশ থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউস-এর বিশ্লেষক লদ কুইলিয়াম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষতার সুযোগ কমে এসেছে এবং মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাও একটি পক্ষ নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যকার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এই পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিয়াদের সঙ্গে ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠতা আবুধাবির অস্বস্তি বাড়িয়েছে।

তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঋণ ফেরতের বিষয়টিকে ‘নিয়মিত আর্থিক লেনদেন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এ ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিবর্তিত কূটনৈতিক বাস্তবতা এবং মিত্রতার নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।