প্রকৌশলী ইমাম উদ্দিন বলেছেন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালর শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত তিন দফা দাবির কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ, এই বিষয়গুলো ইতিমধ্যেই সরকারের ১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত। তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলনের পেছনে কোনো অপশক্তির ইন্ধন থাকতে পারে।
অযৌক্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গন ও প্রকৌশল কর্মক্ষেত্র অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অশান্ত করার লক্ষ্য থাকতে পারে। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও পুলিশ আহত হওয়া এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করছে। তিনি সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করার জন্য অনুরোধ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও ছাত্র শিক্ষকদের বৈধ আন্দোলনকে সমর্থন করবে এবং প্রকৌশল কর্মক্ষেত্রে সমাধান করা বিষয়গুলো অক্ষুণ্ন রাখবে। এছাড়া, সরকারের ৭ দফার অন্যান্য দাবিও যৌক্তিকভাবে সমাধান করা হবে।
ইমাম উদ্দিন আরও বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের পেশাগত দাবির যৌক্তিকতা যাচাই করার জন্য একটি ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। কমিটিতে আইডিইবির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন, আইইবির সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম এবং সরকারের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ইতোমধ্যেই কমিটির প্রথম সভায় প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন সংগ্রাম পরিষদের সাত দফা দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ সদস্য বিশিষ্ট ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষে মাত্র ৪ জন সদস্য থাকায় পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কমিটিকে পুনর্গঠন করে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষে একজন করে রেখে বাকি ১২ জনকে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাখা উচিত বলে দাবি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগে মব সন্ত্রাস চালিয়ে কর্মরত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হুমকির মধ্যে রাখছে। এর ফলে সরকারের প্রকৌশল কর্মকাণ্ডে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে গত ২৫ আগস্ট নেসকোর রংপুর প্রধান দপ্তরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩-এ সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে বহিরাগত মব সন্ত্রাসীরা দপ্তরে প্রবেশ করে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের উপর অশালীন ভাষায় শ্লোগান দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। তবে বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা এই ঘটনার সত্যতা আড়াল করতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করেছেন। এতে দেশব্যাপী ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপেশাসুলভ আচরণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
প্রশ্নোত্তরে প্রকৌশলী আখেরুজ্জামান বলেন, প্রকৌশলীদের তিন দফা দাবি মেনে নিলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির সুযোগ সঙ্কুচিত হবে এবং শিক্ষার ক্ষেত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মেট্রোরেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষিত পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের আবেদন এবং মামলা করে পরীক্ষা স্থগিত করার ঘটনা। এতে রাষ্ট্র এবং সাধারণ জনগণের ক্ষতি হতে পারে।





