লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের শেখের কিল্লা এলাকায় অবস্থিত আস-সালাম জামে মসজিদ আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর এক ব্যতিক্রমধর্মী নিদর্শন। প্রাকৃতিক আলো, বাতাস ও সৌন্দর্যের অনন্য মেলবন্ধনে নির্মিত এই মসজিদটি এখন শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, বরং একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।
প্রায় ১০,৮০০ বর্গফুট আয়তনের দুইতলা বিশিষ্ট এ মসজিদে একসঙ্গে ৪০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এর স্থাপত্য পরিকল্পনা করেছেন বাংলাদেশি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ‘আর্কি গ্রাউন্ড লিমিটেড’-এর স্থপতি নবী নেওয়াজ খান শমীন ও তাঁর দল। মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২১ সালের শেষ দিকে এবং তখন থেকেই এটি মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
মসজিদের ভেতরে বসে মুসল্লিরা সরাসরি রোদ, বৃষ্টি ও কুয়াশার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, তবে রোদে পুড়তে বা বৃষ্টিতে ভিজতে হয় না। কোনো জানালা না থাকলেও মসজিদের ভেতর সবসময় আলো থাকে, বিদ্যুৎ ছাড়াই। শীতল পরিবেশ নিশ্চিতকরণে বিশেষ ব্যবস্থা: বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য রয়েছে সাতটি জলাধার, যেখানে সংরক্ষিত শীতল পাথর মসজিদটিকে গরমের সময় ঠাণ্ডা রাখতে সহায়তা করে।
ছাদ এবং দেয়ালে বাহ্যিকভাবে ইটের কাজ দেখা গেলেও, এর ভেতর রয়েছে রড, সিমেন্ট ও ইটের সংমিশ্রণে নির্মিত শক্ত ভিত। মসজিদের সামনের অংশে রয়েছে মেহরাব ও মূল নামাজের স্থান।পেছনে রয়েছে গলি পথ ও তার দুই পাশে শীতল জলাধার।গ্যালারি ও দোতলা থেকে নামাজ আদায়ের সুযোগ। নারীদের জন্য রয়েছে পৃথক নামাজের স্থান।
মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কমপ্লেক্স—আস-সালাম হাফেজিয়া মাদ্রাসা। এখানে প্রতি ব্যাচে ৬০ জন ছেলে, ৪০ জন মেয়ে এবং ২০ জন হাফেজকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে কোরআনের হিফজ ও আধুনিক ইংরেজি শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষা প্রদান করা হয়। লক্ষ্য হচ্ছে—এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী ইংরেজিতে ইসলামী বক্তব্য রাখতে সক্ষম হবেন।
মসজিদটির একটি তথ্যচিত্র পাঠানো হয়েছে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড আর্কিটেকচার কনফারেন্স’-এ, বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি অর্জনের আশায়।
কুমিল্লা থেকে আসা এক দর্শনার্থী জানান, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে এখানে এসেছি। মসজিদটির নির্মাণশৈলী সত্যিই চমকপ্রদ—এ ধরনের আধুনিক স্থাপত্য বাংলাদেশে বিরল।”
মসজিদের ইমাম মাওলানা হামিদুর রহমান বলেন, “এই মসজিদ শুধু রামগতি নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের বিষয়।”
এই ব্যতিক্রমধর্মী মসজিদ ও শিক্ষা প্রকল্পের পেছনে রয়েছেন স্থানীয় রহিমা মমতাজ ও সাইফ সালাহউদ্দিন ট্রাস্ট। ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী (যিনি একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীও) জানিয়েছেন, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ, তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রচার চান না।
আস-সালাম জামে মসজিদ নিঃসন্দেহে আধুনিক স্থাপত্য ও আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব সমন্বয়, যা ভবিষ্যতের বাংলাদেশে এমন আরও উদ্যোগ গ্রহণে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।





