মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। ২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পাঁচ বছর পর তিনি এই পদে বসেন।
শুক্রবার রাজধানী নেপিদোতে শপথ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, “মিয়ানমার আবারও গণতন্ত্রের পথে ফিরেছে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।” তবে তিনি একই সঙ্গে স্বীকার করেন, দেশটি এখনো বহু “চ্যালেঞ্জের” মুখোমুখি।
গত সপ্তাহে সামরিক-সমর্থিত পার্লামেন্টে তিনি বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, যার মাধ্যমে তার ক্ষমতা আরও সুসংহত হয়। ওই নির্বাচনে আরও দুই প্রার্থী ছিলেন, যারা পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন।
৬৯ বছর বয়সী মিন অং হ্লাইং ২০২১ সালে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দেশজুড়ে সহিংসতা, বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে ব্যাপক অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় এবং সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে মিয়ানমারকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান (ASEAN) থেকেও স্থগিত করা হয়।
শপথ অনুষ্ঠানে মিন অং হ্লাইং বলেন, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং আসিয়ানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবে।
অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী দেশ চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ মোট ২০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে এএফপি।
তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই নির্বাচনকে “প্রহসন” হিসেবে অভিহিত করেছে।
সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক বন্দিদের সাধারণ ক্ষমা ও প্রশাসনে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার মতো ঘোষণাগুলো কেবলই প্রতীকী পদক্ষেপ।
গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনে সামরিক-সমর্থিত দল বড় জয় পেলেও ভোটগ্রহণ দেশের বহু অঞ্চলে হয়নি, যেখানে সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
এদিকে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা





