ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক জুটমিলে পায়ুপথে উচ্চচাপের বাতাস প্রবেশ করিয়ে সজিব শরীফ (১৩) নামে এক কিশোর শ্রমিককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা গ্রামের 'আকিজ-বশির জনতা জুট মিলে' এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সজিব শরীফ পাশের দাদপুর ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল শরীফের ছেলে। সে মিলটির স্পিনিং বিভাগে হেলপার হিসেবে কাজ করতো।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফেরার আগে মেশিন দিয়ে সজিব শরীর পরিষ্কার করতে যায়। এ সময় বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের রজব আলীর পালিত ছেলে রিহাদ শেখ (২৫) সজিবের পায়ুপথে মেশিন দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে দেয়। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

তাৎক্ষণিক সজীবকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে সজিব মারা যায়।

নিহত সজিবের ভাবি নুরজাহান বেগম জানান, পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে মেঝ ছিল সজিব। কাজ শেষে শরীরে লেগে থাকা পাটের আঁশ মেশিন দিয়ে পরিষ্কার করতে গেলে একজন শ্রমিক তার পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে দেয়। দ্রুত তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে ঢাকায় নেওয়া হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সজিবের নাড়ি ছয় জায়গায় ছিদ্র হয়ে গিয়েছিল। অপারেশন করার পর বুধবার সকালে সজিব মারা যায়।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দাদপুর গ্রামের কয়েকশ মানুষ জনতা জুটমিলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করানো এবং তদারকির অভাবেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান বলেন, অপর অভিযুক্ত কিশোরের বাড়ি বোয়ালমারী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে। সে পলাতক থাকায় তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বোয়ালমারী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, সজিবের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা থেকে এখনও গ্রামের বাড়িতে আসেনি। মরদেহ আসার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হবে। তবে লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় জমা দেয়নি কেউ।

এদিকে ঘটনার পর ওই জুটমিলের ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে মিল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।