সিলেট নগরের সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে একযোগে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চালানো এ অভিযানে হকারদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফুটপাত ও রাস্তা থেকে সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নগরের বেশিরভাগ ফুটপাত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হকারদের দখলে চলে যায়। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দেয় এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে হকার উচ্ছেদের দাবি জোরালো হয়। এসব বিষয় মাথায় রেখেই শনিবার সরেজমিনে পরিদর্শনে নামে সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ দল।
পরিদর্শনকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার উপস্থিত ছিলেন।
তারা জানান, হকারদের পুনর্বাসনের জন্য আগেই লালদিঘীরপাড় এলাকায় একটি নির্ধারিত স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওই এলাকা সংস্কার করে হকারদের জন্য ব্যবসার উপযোগী করে তোলা হবে। এরপর কেউ যদি নিজ উদ্যোগে ফুটপাত না ছাড়েন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে আর কোনো হকার রাস্তা দখল করে বসতে পারবেন না। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত তাদের অস্থায়ীভাবে ফুটপাতে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালে কিনব্রিজ, দক্ষিণ সুরমা, কোর্ট পয়েন্ট, বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার এলাকায় সরেজমিনে যান কর্মকর্তারা। এসব এলাকায় হকারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা জানানো হয়। পাশাপাশি কিনব্রিজ ও যমুনা মার্কেটের সামনে থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “বর্তমান প্রশাসনের আন্তরিকতা আছে। তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করি সবার সহযোগিতায় দ্রুত এই উদ্যোগ সফল হবে।”
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, “এই শহর আমাদের সবার। হকার সমস্যা দীর্ঘদিনের। আমরা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছি, পরিকল্পনা করেছি। পুনর্বাসনের জায়গা আছে—তাকে দ্রুত সংস্কার করে হকারদের সেখানে স্থানান্তর করা হবে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই সিলেট শহর হবে হকারমুক্ত।”
\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, “লালদিঘীরপাড়ের পুনর্বাসন কেন্দ্র দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই হকারদের সেখানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হবে। এরপর আর কাউকে ফুটপাতে বসতে দেওয়া হবে না।”





