টানা তাপপ্রবাহের পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ পরিস্থিতি কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।

মঙ্গলবার আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, ভারী বৃষ্টির জন্য ৯৬ ঘণ্টা এবং ঝড়ের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সতর্কবার্তা জারি থাকলেও আগামী ৩ মে পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় বেশি বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ভোলায় ১৫২ মিলিমিটার। ফেনি, শ্রীমঙ্গল, কুমিল্লা, খেপুপাড়া, নিকলি, সিলেট, পটুয়াখালী ও বরিশালেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিও হয়েছে। একই সময়ে যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর ঢাকায় ছিল ২৭ দশমিক ১ ডিগ্রি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রপাত ও ভারী বর্ষণ।

ভারী বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। উপকূলে ঢেউয়ের উচ্চতা বাড়ছে এবং বাতাসের গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে মাছধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ সতর্কবার্তায় ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা জানানো হয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি রয়েছে।

সন্ধ্যার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের সব বিভাগেই দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। পাশাপাশি দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।