বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলায় অভিমানে গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে লামিয়া (বয়স-১৮) নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার (২৩ মার্চ ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের প্রবাসী জাহাঙ্গীর গাজীর মেয়ে লামিয়ার সঙ্গে প্রায় ১০ মাস আগে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মোয়াপাড়া গ্রামের বেল্লাল হাওলাদারের ছেলে আরিফ বিল্লাহর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
মেয়ের পরিবার জানায়, বিয়ের সময় উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতা ছিল—লামিয়ার বাবা মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে শ্বশুরবাড়িতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু এর আগেই স্বামীর পরিবার তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। বিয়ের সময় প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ছেলেকে একটি স্বর্ণের আংটি এবং মেয়েকে একটি নাকফুল উপহার দেওয়া হয়।
মেয়ের পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করেই লামিয়া গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। তবে ছেলের পরিবারের দাবি, গত এক মাস ধরে আরিফ বিল্লাহর সঙ্গে তার স্ত্রীর কোনো যোগাযোগ ছিল না।
গুরুতর অবস্থায় লামিয়াকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পথে পটুয়াখালী এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে নিহতের স্বামী আরিফ বিল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেও তার স্ত্রী তাকে পছন্দ করতেন না এবং তার সঙ্গে সংসার করতে চাইতেন না। তাদের পক্ষ থেকে কোনো যৌতুক দাবি করা হয়নি এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে কিছু নেওয়া হয়নি। রমজান মাসে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার পর থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া ২৮ রমজানে তার বাবা শ্বশুরবাড়িতে ঈদের বাজার, কাপড় ও কসমেটিক নিয়ে গেলেও তাদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তালতলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।





