দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) গঠিত হতে যাচ্ছে ছাত্র সংসদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক শিক্ষার্থী এই উদ্যোগকে গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, এটি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির একটি স্থায়ী প্ল্যাটফরম হিসেবে কাজ করবে।

সম্প্রতি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সংসদের খসড়া গঠনতন্ত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। কমিটির আহ্বায়ক ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাজিজুর রহমান, সদস্যরা হলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফরহাদ উদ্দিন ওরফে জাভেদ এবং সদস্য সচিব আইন বিভাগের প্রভাষক মো. ছোটন আলী।

কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, খসড়া গঠনতন্ত্রের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে এটি শিগগিরই উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।

দুটি স্তরের কাঠামো
খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত হবে দুটি সংসদ—কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ। কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি, জিএসসহ ১২টি সম্পাদকীয় এবং ১৩টি সদস্য পদে সরাসরি ভোটে নির্বাচন হবে। উপাচার্য সভাপতি হিসেবে থাকবেন, আর কোষাধ্যক্ষ পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ বা একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি হলে পৃথক হল সংসদ গঠিত হবে। প্রতিটি হলে ভিপি, জিএসসহ ১৩টি পদে ভোট গ্রহণ হবে। প্রভোস্ট সভাপতি এবং একজন আবাসিক শিক্ষক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল অনুসরণ
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনতন্ত্রকে আদল হিসেবে রেখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া গঠনতন্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। তবে এখানে কিছু নতুন ধারা সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদে ১৫-২০টি এবং হল সংসদে ২৫-৩০টি ধারা থাকবে, প্রতিটি ধারার সঙ্গে উপধারা যুক্ত থাকবে যাতে দায়িত্ব, অধিকার ও কার্যপ্রণালি স্পষ্ট হয়।

নির্বাচন একই দিনে এবং একই ব্যালট পেপারে অনুষ্ঠিত হবে, তবে ভোটগ্রহণ পদ্ধতি ইলেকট্রনিক হবে কি না, তা শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

শিক্ষার্থী সুজয় বিশ্বাস শুভ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবার প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছাত্র সংসদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলো। এটি সফল হলে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাংশের মতে, গঠনতন্ত্রে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক বিকাশের স্থায়ী প্ল্যাটফরম হবে।

রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন জানান, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো আইন নেই। রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে আইন প্রণয়নের অংশ হিসেবে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, “গঠনতন্ত্রের খসড়া সিন্ডিকেটের অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত হবে এবং নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হবে।”