গাইবান্ধার বালাসীঘাট থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) বিকেল আনুমানিক ৩টায় উপজেলার বালাসীঘাট এলাকায় সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালিত হয়। দীর্ঘদিনের এই দাবিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে সেতু নির্মাণের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন।মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ওয়াহেদুজ্জামান বিশ্বাস তোহা এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আবু সাঈদ।

এতে বক্তব্য রাখেন ফুলছড়ি উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল বাছেদ, বুড়াইল কলেজের অধ্যক্ষ ইব্রাহিম আকন্দ সেলিম, গাইবান্ধা জেলা চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি তৌহিদুর রহমান মিলন, পরিচারক আলী কায়ছার বাবুল, গাইবান্ধা ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, সালিমার সুপার মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পা সাহা, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহ-সেক্রেটারি ফয়সাল কবির রানা, ফুলছড়ি উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আমজাদ হোসেন ও সেক্রেটারি আনিছুর রহমান।

এছাড়াও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম সোলায়মান শহীদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র জাহিদ হাসান জীবন, কঞ্চিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালু, এরেন্ডাবাড়ী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মুরাদ হোসেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক রানু সরকার, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া সবুজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।বক্তারা বলেন, বালাসীঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে লাঘব হবে। একইসাথে গাইবান্ধা ও জামালপুরসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও দ্রুততর হবে, যা বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

তারা আরও বলেন, এই সেতু নির্মিত হলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং শিল্প-বাণিজ্য বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। তারা বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি এবং জনগণের ন্যায্য প্রত্যাশা।

স্থানীয় জনগণও এ দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।