রাজশাহীর রাজনীতিতে হঠাৎ করেই উত্তাপ ছড়িয়েছে। একটি আসনে দুই বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি। দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও ভোটের মাঠ ছাড়ছেন না রাজশাহী-৫ আসনের প্রভাবশালী দুই সাবেক বিএনপি নেতা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তারা সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন। এতে একদিকে যেমন দলীয় অস্বস্তি বাড়ছে, অন্যদিকে তৃণমূলে তৈরি হয়েছে ভিন্ন হিসাব-নিকাশ।

জেলার পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার রেজাউল করিম এবং পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, শিল্পপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল।

নির্বাচনী মাঠে ব্যারিস্টার রেজাউল করিম লড়ছেন ফুটবল প্রতীক নিয়ে, আর ইসফা খায়রুল হক শিমুলের প্রতীক ঘোড়া। স্থানীয়ভাবে দুজনই পরিচিত ও প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হলেও ভোটের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত নেই।

‘জনগণের চাপে ভোটে নামতে বাধ্য হয়েছি’

বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম বলেন,
“জনগণ আর নেতাকর্মীদের চাপেই আমাকে ভোট করতে হচ্ছে। যেখানে যাচ্ছি, সাড়া পাচ্ছি। মনে হচ্ছে মানুষ আমার জন্যই অপেক্ষা করছিল। আমি সব সময় জনগণের পাশে থেকেছি, আগামীতেও থাকতে চাই।”

দল থেকে বহিষ্কার নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
“ভেবেছিলাম ভোট করবো না। কিন্তু মানুষের চোখের পানি, আহাজারি আমাকে আটকে রেখেছে। ধানের শীষের ইফেক্ট এখনো আমি মাঠে পাইনি। আমি মাঠে আছি মানুষের জন্য।”

‘মনোনয়ন না পেলেও মানুষ ছাড়তে মানা করেছে’

অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক শিমুল বলেন,
“আমি গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়েছি। সে সময় অনেকের নামে ছিল ১৫ থেকে ৩০টির বেশি মামলা। ঘর থেকে বের হতে পারেনি, বাজার করার মানুষও ছিল না-আমি পাশে দাঁড়িয়েছি।”


তিনি বলেন,
“আজ সেই মানুষগুলো বলছে-ভাই, আপনি মনোনয়ন পাননি তো কী হয়েছে, আমরা আছি। আপনি আমাদের ছেড়ে যাবেন না। এজন্যই আমি মাঠে আছি। দল ছেড়ে যাইনি, দলের রাজনীতিই করে যাবো।”

‘বিএনপির বিদ্রোহী বলে কিছু নেই’

তবে দুই প্রভাবশালী নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও এতে ধানের শীষের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলামের।

তিনি বলেন,
“বিএনপির বিদ্রোহী বলে কিছু নেই। দল একজনকেই মনোনয়ন দিয়েছে, আর যারা বিরোধিতা করেছে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। ফলে আমিই বিএনপির একমাত্র প্রার্থী। ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের জয় হবেই।”

কী বলছে সাধারণ মানুষ

এদিকে ভোটারদের মধ্যে শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। সাধারণ জনগণ বলছে,
“যারা সত্যিকার অর্থে আমাদের পাশে থাকবে, তাকেই আমরা ভোট দেব। অতীতে অনেকে কথার ফুলঝুরি ছড়িয়েছে, উন্নয়নের গল্প শুনিয়েছে—কিন্তু পাশে ছিল না। আগামী দিনে তাদের আর দেখতে চাই না।”

বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাকে সঠিক প্রার্থী দেওয়া হয়নি। বিগত বিএনপির সংকটময় সময়ে তিনি নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর রাখেননি। ফলে তিনি তৃণমুল নেতাকর্মীদের কাছে মনের মতো প্রার্থী হতে পারেনি। ফলে আরো দুইজন যারা মনোনয়ন পাননি তারা ধানের শীষের ভোটে প্রভাব ফেলবে বলে জানান।

রাজশাহী-৫ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের এই অবস্থান শেষ পর্যন্ত ভোটের সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যায়—সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে শুরুতেই যে এই আসনে নির্বাচন নিশ্চিতভাবেই ‘গরম’, তা বলাই যায়।