ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৬ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়নের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর তালিকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

বিএনপির প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, মো. ওয়াজ উদ্দিন প্রামানিককে ৬ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়নের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দেখানো হয়। তালিকাটি প্রকাশের পরপরই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ও সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, মো. ওয়াজ উদ্দিন প্রামানিক বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং দলটির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্র ও জামায়াতের দলীয় তথ্য অনুযায়ী, মো. ওয়াজ উদ্দিন প্রামানিক ৬ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি ওই ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। এসব তথ্য সামনে আসার পর বিএনপির নির্বাচনী কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।

তবে জানা গেছে, প্রায় এক দশক আগে মো. ওয়াজ উদ্দিন প্রামানিক স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জামায়াতের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় বিএনপির সঙ্গে তার বর্তমান কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মো. ওয়াজ উদ্দিন প্রামানিক নিজেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নাটোর-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল আজিজ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য তার নাম বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন দায়িত্বশীল কর্মী। আমাকে জোরপূর্বক বিএনপির উপদেষ্টা তালিকায় যুক্ত করে একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর পেছনে আব্দুল আজিজ সাহেবের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এর মাধ্যমে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অপদস্থ করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিকভাবেও হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির স্থানীয় একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি যাচাই না করে তালিকা প্রকাশ করা হয়ে থাকলে তা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, মো. ওয়াজ উদ্দিন প্রামানিক দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত এবং বিএনপির কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রশ্নই ওঠে না।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাটোর-৪ আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা, বিভ্রান্তি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দলীয় পর্যায়ে আরও সতর্কতা ও স্বচ্ছতার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।