চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে এক বিএনপি নেতার মালিকানাধীন ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। এ সময় ইটভাটার ম্যানেজারসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্দ্বীপ উপজেলার আমান উল্লাহ ইউনিয়নের বিবিএসটি ইটভাটায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
\r\nআটক দুজন হলেন ইটভাটার ম্যানেজার মো. রাসেদ (৪০) এবং রহমতপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আকবর (৪৩)।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’-এর আওতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে কোস্টগার্ড স্টেশন সন্দ্বীপ ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে বেড়িবাঁধসংলগ্ন ইটভাটা এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে একটি দেশীয় একনলা বন্দুক, দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত দুই কারিগরকে আটক করা হয়।
আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে তারা সহযোগিতা করছিল।
কোস্টগার্ড জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
\r\nস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইটভাটার মালিক বাহাদুর আমান উল্লাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
তবে এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর হোসেন ঠাকুর বলেন, বাহাদুরের ইটভাটার ব্যবসা থাকলেও সেখানে একাধিক মালিক রয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার নাম জুড়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার দুজনের সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিষয়টি তদন্তে স্পষ্ট হবে।
\r\nএদিকে সন্দ্বীপ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন হালদার জানান, আমান উল্লাহ এলাকার একটি বাড়ি ও ইটভাটা এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
\r\nইটভাটার মালিক বিএনপির নেতা কি না- এ বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।





