রংপুরে আলোচিত ছমেস উদ্দিন হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষক মাহমুদুল হককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এ মামলায় পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে বদলি করা হয়েছে হাজিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহকে।

\r\n

রোববার (২২ জুন) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওসি বদলির বিষয়টি জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, ওসি মামুন শাহকে ডিবি পরিদর্শক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তার স্থলে মহানগর ডিবির পরিদর্শক রাজিবুল ইসলামকে হাজিরহাট থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ওসি মামুন শাহ নিজেও নিশ্চিত করেছেন।

\r\n

একইদিন দুপুরে রংপুর আদালতে মাহমুদুল হকের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী। তারা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ‘মাহমুদুল হকের মুক্তি চাই’, ‘স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা করো’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা মামলাটিকে ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে মাহমুদুল হককে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানান।

\r\n

গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিকেলে শিক্ষক মাহমুদুল হককে ছমেস উদ্দিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এবং তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গ্রেপ্তারকে স্বাধীন চিন্তার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

\r\n

এদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশিষ্ট নাগরিক, বুদ্ধিজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা এক বিবৃতিতে মাহমুদুল হকের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এই গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। মতপ্রকাশ ও শিক্ষকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া যায় না।” তারা অবিলম্বে তার মুক্তির আহ্বান জানান।

\r\n

উল্লেখ্য, রংপুরে চলমান ‘জুলাই আন্দোলন’-এর সময় পুলিশের ধাওয়া ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মুদি দোকানি ছমেস উদ্দিন নিহত হন। ওই ঘটনার তদন্তে শিক্ষক মাহমুদুল হকের নাম আসায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ। তবে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন বিভিন্ন মহল।