ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার সিলেটে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর বাড়ানো নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যটি গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে অর্থমন্ত্রী ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির কথা বলেছেন, কর বাড়ানোর কথা নয়।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। ফলে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়, তা মূলত সরকারের নিয়মিত ব্যয় মেটাতেই শেষ হয়ে যায়, উন্নয়ন খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয় না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, তবে ব্যক্তি পর্যায়ে কর বাড়ানোর কোনো প্রশ্ন নেই।

শনিবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউস-এ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শজিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজান মাসে বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। শুরুর দিকে লেবুসহ কয়েকটি পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়লেও বর্তমানে তা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে।

এ সময় তিনি আরও জানান, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঈদের আগেই শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও মজুরি পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বন্ধ থাকা বিভিন্ন শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে। স্পেনে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী শজিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নদী ও খাল খনন, পাশাপাশি হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকার কারণে সিলেট অঞ্চলে বর্ষাকালে হঠাৎ ঢলের পানি নেমে আসে, ফলে প্রায়ই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি জাতীয় নদী কমিশনের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে।

মতবিনিময় সভা শেষে বাণিজ্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী সুরমা ও চেঙ্গার নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকায় পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন।