সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রোববার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের জন্য হ্যাঁ ভোটের প্রতি জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন।
তিনি বলেন, “ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচারের জাঁতাকলে ১৬ বছর বঞ্চিত জাতি ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান মাধ্যমে আপাতত ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে স্বৈরাচারের পথ এখনো বিদ্যমান। তাই আর কোনো স্বৈরাচার যেন জনগণের ওপর চেপে বসতে না পারে, তার জন্যই জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে। সনদ কার্যকরের জন্যই আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করতে হবে।”
তিনি বলেন, হ্যাঁ ভোটের প্রার্থী একক কোনো ব্যক্তি নয়, “আপনি, আমি, আমরা সবাই”। হ্যাঁ ভোট আমাদের সবার জন্য মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ খুলে দেবে।
ড. রীয়াজ আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে দমিত জাতি আর কোনো স্বৈরশাসন বা দুঃশাসন চাইছে না। তারা একটি আলোকিত ভবিষ্যৎ চাইছে, যেখানে সাম্য, সমতা ও আনন্দ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং কেউ গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার বা বাহিনীর হাতে গুম হওয়ার ভয়বোধ করবে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জানিয়ে দেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন। গণভোটে হ্যাঁ ভোট জয়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশনে সরকার ও বিরোধীদল একসাথে কাজ করবে। সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিতে বিরোধীদলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে এবং একজন প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, ফলে বিচারের বাণী আর নিভৃতে কাঁদবে না।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. নিজাম উদ্দিন ও হবিগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. সায়েম উদ্দিন আহম্মদ।





