আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আতাউর রহমান সরকারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত এক ইউনিয়ন ও দায়িত্বশীল সমাবেশে এই ঘোষণা দেন দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম।

\r\n

আতাউর রহমান সরকার বর্তমানে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাবেক এই ছাত্রনেতা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি লেখালেখি, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায়ও সক্রিয় রয়েছেন।

\r\n

আতাউর রহমান সরকার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন (PGDS) ও এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক হিসেবে ২০১১ সালে দায়িত্ব পালন করেন।

\r\n

এর আগে তিনি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় স্কুল সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, কুমিল্লা মহানগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

\r\n

রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি আতাউর রহমান সরকার আর্ত-মানবতার সেবায়ও যুক্ত রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সময় তিনি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। ১৯৯৯ সালে কসবায় গ্যাস সরবরাহের দাবিতে গঠিত ‘গ্যাস বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করেন তিনি। এছাড়া ২০০০ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় কসবা উপজেলা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

\r\n

তিনি ২০০৫-২০০৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের সদস্য সচিব এবং ২০০৭-২০০৮ সালে কুমিল্লা জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

\r\n

২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ঢাকার হাতিরঝিল ও রমনা থানার আমির ছিলেন তিনি। বর্তমানে ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন।

\r\n

আতাউর রহমান সরকার বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে কারাবরণ করেছেন। কসবা এবং ঢাকায় ১৯৯৮, ২০১০, ২০১৬ ও ২০২১ সালে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে তিনি প্রায় দেড় বছর কারারুদ্ধ ছিলেন।

\r\n

আসন্ন নির্বাচনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।