মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ এবং অতিরিক্ত জরিমানার ঘোষণা দেওয়ার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করে বলেছে, দেশবাসী এখন মোদির ‘বন্ধুত্বের মূল্য’ দিচ্ছে।


কংগ্রেস এক্স (সাবেক টুইটার)–এ দেওয়া এক পোস্টে লিখেছে, “মোদি ২০১৯ সালে ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন, তাঁকে আলিঙ্গন করে ছবি তুলেছিলেন। আজ সেই বন্ধুত্বের ফল দেশকে ভোগ করতে হচ্ছে।” কংগ্রেস আরও অভিযোগ করেছে, “মোদি সরকার পররাষ্ট্রনীতিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।”


ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে জ্বালানি ও অস্ত্র কেনার কারণে ভারতকে অতিরিক্ত জরিমানার মুখেও পড়তে হবে। তাঁর দাবি, ভারত ও চীন রাশিয়ার যুদ্ধ খরচ বহন করছে, যা ইউক্রেনে চলমান রক্তপাতের জন্য দায়ী। তিনি বলেন, আবার ক্ষমতায় গেলে শপথ নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধ করবেন।


নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, “ভারত সব সময় রাশিয়া থেকে বিপুল অস্ত্র ও জ্বালানি কিনে এসেছে। এই অবস্থায় ভারতের উচিত শাস্তি পাওয়া, কারণ তারা এমন সময়ে রাশিয়াকে সাহায্য করছে, যখন বিশ্ব ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ চায়।”


এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেস নেতা মাল্লু রবি বলেন, “আমরা উদ্বিগ্ন। এটা যেন সরাসরি ভারতের প্রতি হুমকি। আমাদের উচিত এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া।” আরেক কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা বলেন, “যাঁকে বন্ধু ভেবেছিল সরকার, তিনিই এখন আঘাত করছেন। ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতির মুখে পড়বে। আমরা এই ইস্যু সংসদে তুলব।”


আম আদমি পার্টির (এএপি) সাংসদ সঞ্জয় সিং বলেন, “মোদি প্রতিদিন ভারতের অপমান করছেন। ট্রাম্প তো অ্যাপলকে পর্যন্ত হুমকি দিয়েছেন যেন তারা ভারত থেকে আইফোন তৈরি না করে। এমনকি তিনি বলেছেন, তিনি পাকিস্তানকে ভালোবাসেন। মোদির উচিত, এই বিষয়ে সরাসরি কড়া প্রতিবাদ জানানো।”


অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারা ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, এখনই প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় নয়। অনেক সময় ট্রাম্প নিজেই তাঁর সিদ্ধান্ত বদলান বলে মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা হেমাং যোশি। তিনি বলেন, “সরকারিভাবে কিছু না বলা পর্যন্ত আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে।”


বিজেপি সংসদ সদস্য প্রতাপ সারাঙ্গি বলেন, “ভারত উপযুক্ত পাল্টা কৌশল তৈরি করবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী, মোদির নেতৃত্বে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।”


বিজেপির প্রবীণ খান্ডেলওয়াল বলেন, “ভারত সরকার নিশ্চয়ই এর উপযুক্ত জবাব দেবে। ব্যবসা ও শিল্প খাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখে।”


প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের ওপরই পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এসব দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ শুল্ক বসিয়ে আসছে, যা তিনি ‘অবিচার’ বলে মনে করেন। এবার সেই তালিকায় ভারতও যুক্ত হলো।