পার্শ্ববর্তী একটি দেশ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এবার এমন কোনো হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই নির্বাচন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার ধারাবাহিকতা এবং গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিফলন। এই নির্বাচন তাদের সংগ্রামের ফসল, যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের অভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ দূর করার জন্য। আমরা দেখেছি, পার্শ্ববর্তী একটি দেশ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। তারা বলেছে, ১১ দলীয় জোট নাকি ভোট চুরি ছাড়া ক্ষমতায় যেতে পারবে না। গত ১৬ বছর তারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশে কে সরকার গঠন করবে, কারা ক্ষমতায় আসবে—তা একমাত্র জনগণই নির্ধারণ করবে। আধিপত্যবাদ যদি এ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।’
তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সারা দেশে ১১ দলের প্রার্থীদের বিপুল ভোটে নির্বাচিত করুন। তাহলে দেশের মানুষের স্বপ্ন এবং শহীদ ওসমান হাদির স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন শহীদ ওসমান হাদি এবং জুলাইয়ের যোদ্ধারা। আমরা ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এ দেশের মাটিতেই করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে এবং সাম্য ও মানবিক মর্যাদার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।’





