ভারত-বাংলাদেশ-ভুটান ত্রিদেশীয় বাণিজ্যে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। ভারতের শিলিগুড়ির ফুলবাড়ী স্থলবন্দরে ভুটান থেকে বাংলাদেশগামী পাথরবাহী ট্রাক আটকে দিয়েছেন স্থানীয় ভারতীয় পরিবহনকর্মীরা। অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে বাংলাদেশের আমদানিকারকেরা শুধুমাত্র ভুটান থেকে পাথর আমদানি করছেন, ভারতের পরিবহনকারীদের বাদ দিয়ে।

\r\n

সোমবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন পরিবহনকর্মী ফুলবাড়ী সীমান্তে অবস্থান ধর্মঘট ও অবরোধ চালান। এর ফলে সীমান্তের দু’পারে তৈরি হয় শতাধিক ট্রাকের দীর্ঘ লাইন।

\r\n

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিকেলে শিলিগুড়ির সাবেক মেয়র গৌতম দেবের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পরিবহনকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার পর তাঁরা আপাতত অবরোধ তুলে নেন। তবে, আজ মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির জেলা প্রশাসক শামা পারভিনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন পরিবহনকর্মীদের প্রতিনিধিরা।

\r\n

ফুলবাড়ী ট্রাক ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক শুভংকর নস্কর বলেন, “বাংলাদেশ ভুটান থেকে পাথর আমদানি করলেও ফুলবাড়ীর ট্রাকগুলিকে তা পরিবহনের সুযোগ দিচ্ছে না। এতে প্রায় ১,৫০০ ট্রাক মালিক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”

\r\n

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আমাদের ট্রাকগুলিকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া হয়, তাহলে ভুটানের কোনো ট্রাককেই আমরা ফুলবাড়ী দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করতে দেব না।”

\r\n

এই বিক্ষোভে অংশ নেয় ফুলবাড়ী ট্রাক ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ছাড়াও ট্রাক ড্রাইভারস অ্যাসোসিয়েশন, এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

\r\n

ট্রাক মালিক সমিতির আরেক নেতা মো. শাহজাহান বলেন, “আমরা আপাতত অবরোধ প্রত্যাহার করেছি। তবে দাবি পূরণ না হলে ফের কঠোর পদক্ষেপে যেতে বাধ্য হব।”

\r\n

সূত্র জানায়, প্রতিদিন ভুটান থেকে প্রায় ২৫০টি ট্রাক ফুলবাড়ী হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, প্রতিটি ট্রাকে গড়ে ৩০ টন পাথর থাকে।

\r\n

মেয়র গৌতম দেব পরিবহনকর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে বিষয়টির একটি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হবে। এই সময়ের মধ্যে সমস্যা মেটানো না হলে, আবার আন্দোলনে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

\r\n

এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ত্রিপাক্ষিক বাণিজ্যে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যেখানে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমঝোতা জরুরি হয়ে উঠছে।