দেশে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভূমিকম্পের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সদ্য বিদায়ী ফেব্রুয়ারি মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ১০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভূমিকম্প মোকাবিলায় রাজধানী ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানান, ভূমিকম্পের পর আশ্রয়ের জন্য রাজধানীর খেলার মাঠ ও স্কুলগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভূমিকম্পের সময় ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ভূমিকম্প মোকাবিলায় একটি প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। এ বিষয়ে আগামী ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই দেশে একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। এর মাত্রা ছিল ৩।
৩ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যেগুলোর মাত্রা ছিল ৫.৯ ও ৫.২। একই দিন ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ৪.১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়।
পরবর্তীতে ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি গোয়াইনঘাট উপজেলা এলাকায় দুটি কম্পন অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩.৩ ও ৪। ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাতক উপজেলা এলাকায় ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫.১ মাত্রার শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি আবার ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার কেন্দ্র ছিল সাতক্ষীরা জেলার ২৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং গভীরতা ছিল মাত্র ৯.৮ কিলোমিটার, যা অগভীর হওয়ায় কম্পন বেশি অনুভূত হয়েছে।
সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ১০ বার ভূমিকম্প হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ঘন ঘন ভূমিকম্পকে বড় দুর্যোগের সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন।





