সৌদি আরবের সিনেমা জগতে এক নতুন মাইলফলক যোগ হলো। দেশটির নারী নির্মাতা শাহাদ আমিন পরিচালিত ‘হিজরাহ’ এবার অংশ নিচ্ছে বিশ্বখ্যাত ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। প্রথমবারের মতো সৌদি কোনো চলচ্চিত্র স্থান পাচ্ছে উৎসবের স্পটলাইট বিভাগে।

আন্তর্জাতিক বিনোদন সাময়িকী ভ্যারাইটি জানায়, ‘হিজরাহ’ শাহাদ আমিনের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর আগে তার প্রথম সিনেমা ‘স্কেলস’ ১৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে এবং সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অস্কারেও পাঠানো হয়েছিল।

নির্মাতা শাহাদ আমিন জানান, ‘হিজরাহ’ ছিল তাঁর জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং ও আবেগময় যাত্রা। চলচ্চিত্রটি নির্মাণে তিনি ও তাঁর দল সৌদি আরবের বিভিন্ন দূরবর্তী অঞ্চল ঘুরে শুটিং করেছেন।

তিনি বলেন, “বিভিন্ন প্রজন্মের সৌদি নারীদের জীবন, সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য এই গল্পটি বলা অত্যন্ত জরুরি মনে হয়েছে। এটি কেবল একটি ভ্রমণের গল্প নয়, বরং এক আত্মিক জার্নির উপাখ্যান।”

সিনেমার গল্প

‘হিজরাহ’র কাহিনি আবর্তিত হয়েছে ১২ বছর বয়সী জান্নাকে ঘিরে, যে তার কঠোর দাদি সিত্তি এবং ১৮ বছর বয়সী বিদ্রোহী বড় বোন সারাহকে নিয়ে হজে যাওয়ার পথে যাত্রা শুরু করে। তবে যাত্রাপথেই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় সারাহ।

তখন সারাহর খোঁজে জান্না ও তার দাদি এক কঠিন অভিযানে নামেন—চেষ্টা করেন সব গোপন রেখে তাকে খুঁজে বের করতে। এই পথে তারা পাড়ি দেন সৌদি আরবের দক্ষিণ থেকে উত্তর সীমান্ত পর্যন্ত, অতিক্রম করেন পুরনো হজ রুট, অপরিচিত মানুষ ও প্রতিকূল প্রকৃতি।

এই যাত্রায় উন্মোচিত হয় বহুদিনের চাপা পারিবারিক গোপন সত্য। জান্না জানতে পারে তার দাদির অতীত জীবনের জটিল ইতিহাস এবং পরিবারজুড়ে নারীদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সম্পর্কের টানাপড়েন। অবশেষে এই যাত্রা রূপ নেয় এক আত্মিক মুক্তির খোঁজে, যেখানে উঠে আসে ক্ষমা, বোঝাপড়া ও আত্মদর্শনের বার্তা।

অভিনেতা-অভিনেত্রী ও পরিবেশনা

চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন খাইরিয়া নাথমি, নাওয়াফ আল-ধাফিরি, লামার ফাদান ও বারা আলেম। আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে ইরাকি স্বাধীন চলচ্চিত্র কেন্দ্র।

সৌদি আরব বর্তমানে নিজ দেশে চলচ্চিত্র শিল্পের ব্যাপক প্রসারে কাজ করছে। নির্মিত হচ্ছে আধুনিক শুটিং লোকেশন, বাড়ানো হয়েছে সিনেমা হলের সংখ্যা এবং নারী নির্মাতাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। ‘হিজরাহ’ সেই উদ্যোগেরই এক সফল উদাহরণ।