আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারাদেশে যখন নির্বাচনী আমেজ তুঙ্গে, তখন ভোটের ডাকে সাড়া দিতে রাজধানীর ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরাও হল ছাড়তে শুরু করেছেন। নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কলেজের আবাসিক হলগুলোতেও।
এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি। তাঁদের অনেকেই প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন। ভোট দেওয়ার সুযোগকে ঘিরে তরুণদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরাও হল ছেড়ে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন।
নির্বাচন উপলক্ষে সরকার আগামী ১১ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন উপলক্ষে ছুটি, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটি এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে ছুটি থাকবে।
টানা পাঁচ দিনের এই ছুটিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। অনেক হলের ডাইনিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছেন। একসময় শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখর থাকা হল মাঠ, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, হলপাড়া, মুক্তমঞ্চ ও শহীদ মিনার এলাকায় এখন নেমে এসেছে নিরবতা।
শিক্ষার্থীরা জানান, এবারের বাড়ি ফেরা শুধু ছুটি কাটানোর জন্য নয়, বরং ভোট দেওয়ার লক্ষ্যেই। ঢাকা কলেজ সাউদার্ন হলের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আহাদ জানান, অতীতে ভোট দিতে পারলেও অনিয়মপূর্ণ নির্বাচনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি বাড়ি যাচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ে।
আহাদ বলেন, “এই প্রথম আমি ভোট দেব। এবারের নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখছি। আশা করছি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।”
ইন্টারন্যাশনাল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী ইমি আরাফাত বলেন, “আমি মূলত ভোট দেওয়ার জন্যই বাড়ি যাচ্ছি। বিশেষ করে গণভোটে অংশ নেওয়াটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে।”
ইমি ও আহাদের মতো আরও অনেক শিক্ষার্থী ভোটের উদ্দেশ্যে হল ছেড়ে বাড়ি ফিরছেন। তাদের কাছে এবারের বাড়ি ফেরা শুধু নাড়ির টান নয়, বরং ভোটাধিকার প্রয়োগের আকাঙ্ক্ষাও বড় কারণ। নবীন ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পাবে যোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, আর গণতান্ত্রিক ধারাও হবে আরও শক্তিশালী।





